https://www.voiceofpeople24.com/
4886
international
প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৪৮
ইসমাইল হোসেনের মতো সেউতায় অবস্থানরত শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী স্পেনের আশ্রয়ের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। তাঁদের দাবি, মরক্কোয় ফেরত না পাঠিয়ে স্পেনে থাকার সুযোগ দিতে হবে।
সম্প্রতি ব্যাপকসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশী সীমান্ত পেরিয়ে মাত্র ৮০ হাজার মানুষের এই ছোট ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনেকে স্বেচ্ছায় ফিরে গেলেও বর্তমানে আনুমানিক ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী সেউতায় অবস্থান করছেন।
অতিরিক্ত চাপের কারণে শহরের সক্ষমতা সংকটে পড়েছে। ফলে অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার অপেক্ষায় এল ত্রাম্পোলিন সৈকত ও শহরের উপকণ্ঠে মানবেতর পরিবেশে দিন কাটাচ্ছেন।
মরক্কোর তেতুয়ান থেকে আসা আইয়ুব এলআরুদ বলেন, তাঁরা সমুদ্রের পাশে ঘুমাচ্ছেন। সেখানে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও দুর্গন্ধের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। শহরের দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রেও পুলিশ বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল স্পেনের পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার। সেখানে লেখা ছিল—‘আমরা মরক্কোয় ফিরে যেতে চাই না’ এবং ‘আমরাও মানুষ’। এ সময় তাঁরা ‘আমরা ক্লান্ত’ ও ‘আমাদের একটি সমাধান দরকার’—এমন স্লোগান দেন।
সৈকতে অবস্থানরত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কেউ কাপড় ধুচ্ছিলেন, আবার কেউ বাঁশের তৈরি ছিপ দিয়ে মাছ ধরছিলেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানান, অনিয়মিতভাবে সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের সেখানে থাকার, স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার কিংবা বৈধ মর্যাদা পাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের সুযোগ থাকতে পারে।
এদিকে সেউতার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এনরিকে রোভিরাল্তা শহরের স্বাস্থ্যসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপের কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, সীমিতসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ধীরগতির প্রতিক্রিয়ারও সমালোচনা করেন তিনি।
রোভিরাল্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডায়রিয়া ও খোসপাঁচড়ার মতো সংক্রামক রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে।
তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ থাকলেও তা ভেঙে পড়েনি। অভিবাসনের সঙ্গে রোগব্যাধিকে যুক্ত করাকে তিনি অন্যায্য ও জেনোফোবিক বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, অভিবাসীদের মধ্যে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মাঝারি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি কম।
সেউতায় অবস্থানরত অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশী মরক্কোর নাগরিক। রয়টার্সকে তাঁরা জানিয়েছেন, নিজ দেশে কাজের পরিবেশ ও আয় নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়েই ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তাঁদের অনেকেরই উচ্চতর শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা রয়েছে।
ফেজ শহরের ৩৯ বছর বয়সী অটোমেশন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ওয়ানজার জানান, মাসে গড়ে ৩ হাজার দিরহাম (প্রায় ৩২৪ ডলার) আয় করে তাঁর পক্ষে বাড়ি কেনা বা পরিবার শুরু করা সম্ভব নয়।
স্পেনের মাটিতে পৌঁছানোর অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে পৌঁছে তাঁর মনে হয়েছে যেন নতুন করে জন্ম নিয়েছেন। দেশে ফিরে যাওয়ার চেয়ে তিনি বরং সেখানেই থেকে যেতে চান।