https://www.voiceofpeople24.com/

4812

economy

এলএনজি সরবরাহ বাড়ছে, গ্যাস-সংকটও কাটছে

প্রকাশিত : ০৬ আগস্ট ২০২৬ ২০:৩৭

টানা ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে মেরামত শেষে আবারও চালু হয়েছে সাগরে ভাসমান এলএনজি (FSRU) টার্মিনাল। বুধবার রাত থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে, যা শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, মেরামত হওয়া টার্মিনালটি থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যোগ হচ্ছে। সন্ধ্যার মধ্যে এ সরবরাহ ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাবে। একই সময়ে দুটি এলএনজি টার্মিনাল মিলিয়ে মোট সরবরাহ প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।

গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের পরিমাণ নেমে আসে প্রায় ২ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। এর প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।

আরপিজিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এলএনজি কার্গো সরবরাহে কোনো জটিলতার আশঙ্কা নেই। ফলে নতুন করে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

এদিকে পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ এখন ২ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়েছে। তবে দেশের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হওয়ায় এখনও প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিল্পখাত। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে অনেক কারখানা উৎপাদন সীমিত করেছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান কয়েক দিনের ছুটিও ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১ হাজার ৬৩৮ মিলিয়ন ঘনফুটে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।