https://www.voiceofpeople24.com/

4807

national

আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত : ০৬ আগস্ট ২০২৬ ১২:৪১

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে শুধু স্মরণ করলেই হবে না, তা বাস্তব জীবনে ধারণ করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি। জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি—এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।”

বুধবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, একটি অনুষ্ঠানে তিনি এমন এক মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন, যিনি আন্দোলনে দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো ছেলেকে নিয়ে এসেছিলেন। সেই দৃশ্য তাঁর হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ে নিহত ও আহতদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জাতীয় সংসদ ও বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এটি কেবল তাৎক্ষণিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো ৫ আগস্টও গৌরবের দিন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। তাঁর ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যেমন বিদেশি দখলদার শক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশীয় ফ্যাসিবাদী শক্তির পতনের মধ্য দিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় জনগণ বারবার স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে ধৈর্য, সহনশীলতা এবং পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, টেকসই রাষ্ট্র গঠনের জন্য মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, কেবল আইন বা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করলেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়; রাষ্ট্রীয় সংস্কারের সূচনা হতে হবে সংবিধান থেকে।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান ছিল জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফল। এর মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, অতীতের দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন ও মৌলিক অধিকার হরণের রাজনীতি থেকে দেশকে বের করে আনতে জনগণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।