https://www.voiceofpeople24.com/
4800
sports
প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:২১
বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে চাপে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সমালোচনার মুখে পরিকল্পনাটি থেকে সরে এলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এর মধ্যেই ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তিনি। বুধবার মরক্কোতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ফিফার বাণিজ্যিক ও ইভেন্ট পরিচালনা কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা কয়েকটি আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থার বিরোধিতার মুখে বাতিল করতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে এবং এখন তাঁর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ফিফার ভেতর থেকেও এসেছে সমালোচনার সুর। সংস্থাটির মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক চিঠিতে জানান, ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। দ্য অ্যাথলেটিকের প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর এক বিবৃতিতে বলেন, কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং এটি একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক উদ্যোগ ছিল। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি।
ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গারও বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি জানান, প্রকল্পটির বিষয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকেই প্রথম জানতে পারেন এবং এর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
ওয়েঙ্গারের মতে, পরিকল্পনাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয় ছিল। তিনি বলেন, ফিফার একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা উচিত, যা সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ফুটবলের উন্নয়নে কাজ করবে।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফিফার বাইরেও সমালোচনা বাড়ছে। জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাবেক ফিফা সভাপতি প্রার্থী প্রিন্স আলী বিন আল হুসেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিফার আচরণের সমালোচনা করে এটিকে ‘ব্ল্যাকমেইল’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি তাঁর প্রতি আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছে। আগামী বছরের নির্বাচনে তাঁর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ফুটবল কর্তৃপক্ষও একই পথে যেতে পারে।
তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং কনকাকাফ এখনো নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানায়নি। তারা বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে ইনফান্তিনোর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট এখন ইনফান্তিনোর জন্য বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।