https://www.voiceofpeople24.com/

4489

sports

বাঘের গর্জনে কাঁপল অস্ট্রেলিয়া, সিরিজ বাংলাদেশের

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০২৬ ২২:১২

মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে বের হওয়া সেই ছক্কাটি শুধু ম্যাচ শেষ করেনি, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসেও যোগ করেছে নতুন এক অধ্যায়। রাইলি মেরেডিথের শর্ট বল ফাইন লেগের ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়েই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার মিরপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় টাইগাররা। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। এখন লক্ষ্য একটাই—অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাওয়াশ করা। আগামী ১৪ জুন শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।

এই সিরিজ জয়ের মধ্য দিয়ে টেস্ট খেলুড়ে প্রায় সব দেশের বিপক্ষেই ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। এখন শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ই অধরা রয়ে গেছে।

বৃষ্টির কারণে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান। লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই জ্যাভিয়ের বার্টলেটের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম।

এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন সৌম্য সরকার। ধৈর্য আর আক্রমণের মিশেলে দ্বিতীয় উইকেটে ৯৩ বলে ৮৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তারা। দুজনই ৪৩ রান করে আউট হন। ম্যাট রেনশের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বিদায় নেন সৌম্য, আর মেরেডিথের শিকার হন শান্ত।

১৮.১ ওভারে ৯৮ রানে তিন উইকেট হারানোর পর লিটন দাস ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই। লিটন ২১ এবং সৈকত ১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

২৭ ওভারে ১৪৪ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে তারা গড়েন ৪৯ বলে অবিচ্ছিন্ন ৫১ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত মিরাজের ছক্কাতেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়। মিরাজ ও হৃদয় অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের তোপে বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। মাত্র ২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে অজিরা। ওপেনার ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন, আর কুপার কনোলি ও ম্যাট রেনশকে উইকেটের পেছনে লিটনের ক্যাচে ফেরান মোস্তাফিজ।

তবে মারনাস লাবুশেন একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান। ৮৫ বলে ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। বৃষ্টির কারণে এরপর দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে।

বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ তিনটি করে উইকেট নেন। ৭ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন মোস্তাফিজ। তানভীর ইসলাম নেন দুটি উইকেট।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজ জয় শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাস, পরিণতি ও সামর্থ্যের নতুন এক ঘোষণা।