https://www.voiceofpeople24.com/

4436

sports

ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়

তপুর জোড়া গোলে ইউরোপ জয়

প্রকাশিত : ০৬ জুন ২০২৬ ১০:২৫

ইউরোপের মাটিতে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেশের ফুটবলে নতুন এক মাইলফলক গড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দেশকে হারানোর স্বাদ পেল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নতুন কোচ থমাস ডুলির অভিষেক ম্যাচও রাঙানো হলো স্মরণীয় সাফল্যে। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ, যিনি করেছেন জোড়া গোল।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে সান মারিনো বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও ইউরোপের পরিবেশ ও কন্ডিশন ছিল আলাদা চ্যালেঞ্জ। তবে সেই চ্যালেঞ্জ জয় করতে মাঠের গ্যালারিতে দারুণ সমর্থন জুগিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের উৎসাহেই শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরুতে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। ১৭ মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার শট প্রতিপক্ষের রক্ষণে আটকে যায়। তবে দুই মিনিট পরই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ডান দিক থেকে শেখ মোরছালিনের দারুণ ক্রসে উড়ে এসে হেডে বল জালে পাঠান তপু বর্মণ। সেই গোলেই ইউরোপের মাটিতে ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম গোলের ইতিহাস রচিত হয়।

গোল খাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ায় সান মারিনো। ৩১ মিনিটে ফিলিপ্পো বেরার্দির পাস থেকে নিকোলাস জিকোপেত্তি গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর ৩৭ মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সাদ উদ্দিন সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলে পরিবর্তন আনেন কোচ থমাস ডুলি। একসঙ্গে তিনটি বদলি এনে আক্রমণের ধার বাড়ান তিনি। মাঠে নামেন শমিত সোমও। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের দখলে নেয় বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।

অবশেষে ম্যাচের ৮৬ মিনিটে আবারও সামনে আসেন তপু বর্মণ। হামজা চৌধুরীর নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে বিশ্বনাথ ঘোষের ভলি ঘুরে আসা বলে হালকা হেড ছুঁইয়ে জালে পাঠান তিনি। তপুর দ্বিতীয় গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জার্সিতে এটি ছিল তার অষ্টম গোল।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে সেরাভালে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো বাংলাদেশি সমর্থক উল্লাসে মেতে ওঠেন। তপু বর্মণের বীরত্বে ইউরোপের মাটিতে উড়ল লাল-সবুজের পতাকা, আর বাংলাদেশের ফুটবল যোগ করল গৌরবের নতুন অধ্যায়।