https://www.voiceofpeople24.com/

4426

national

হজযাত্রীদের ১৫০ লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৪ জুন ২০২৬ ১৬:৫০

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ থেকে ফেরা যাত্রীদের ১৫০টি লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, তদন্তে এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হজ থেকে ফেরা যাত্রীদের প্রায় ১৫০টি লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। এরপর দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ এবং গ্রাউন্ড স্টাফদের বডি-ওর্ন ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে আসা মোট ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে মাত্র ২১টি ব্যাগ আগে থেকেই কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। তবে ঢাকা বিমানবন্দরে কোনো লাগেজ কাটা, চুরি বা অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “লাগেজ নামানোর ১৩ মিনিটের মধ্যেই প্রথম ব্যাগ কনভেয়ার বেল্টে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং এক ঘণ্টারও কম সময়ে সব লাগেজ যাত্রীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নীতিমালা অনুযায়ী চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি কিংবা যথাযথভাবে সিল না করা তরল সামগ্রী বহন করা নিষিদ্ধ। স্ক্যানিংয়ের সময় এসব বস্তু শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী লাগেজ খুলে বা কেটে সেগুলো জব্দ করতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বুকিং লাগেজে নগদ অর্থ, মানিব্যাগ বা মূল্যবান সামগ্রী বহন করাও আন্তর্জাতিক নিয়মবিরোধী। তাই যাত্রীদের এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, “বিমান থেকে লাগেজ নামানো থেকে শুরু করে যাত্রীদের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। সেগুলো পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চলতি হজ মৌসুমে ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রীকে নির্বিঘ্নে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবার হাজিদের সন্তুষ্টির হার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ছিল।