https://www.voiceofpeople24.com/
4606
sylhet
প্রকাশিত : ০৪ জুলাই ২০২৬ ১২:০৩
শাহিন আলম
মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণের একটি প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে। অভিযোগ রয়েছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ড্রাফটসম্যান শাহিন আলম একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটি নিলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও প্রকল্প শেষ করেননি। কোটি টাকার বিল উত্তোলনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও জানেন না, প্রকল্পের বিপরীতে কত টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদুজ্জামানের যোগসাজশে কাজটি ওই প্রতিষ্ঠানের হাতে যায়।
২০২৩ সালে ‘প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লিবার্টি ট্রেডার্স (জেবি)’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় বাড়ানো হলেও অগ্রগতি হয়নি। ২০২৫ সালে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে কাজ কার্যত স্থবির।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) যৌথ বাস্তবায়নে এবং বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় সদর ও রাজনগর উপজেলার ৭৬টি স্থানে পাইপলাইনভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সদর উপজেলায় মাত্র ২২টি স্থানে আংশিক কাজ হয়েছে, আর রাজনগরে ৩৮টির একটিতেও কাজ শেষ হয়নি।
সরেজমিনে রাজনগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের কির্তার মহলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঠিকাদারের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে তারা নিজেদের অর্থে মোটর, পাইপ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও অন্যান্য সরঞ্জাম স্থাপন করে পানি সরবরাহ চালু করেছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যবহৃত পাইপ ছিল নিম্নমানের এবং স্থাপনের কিছুদিনের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মচারী শাহিন আলম নিজের লাইসেন্স ব্যবহার না করে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে ঠিকাদারি কাজ করে আসছেন। এর আগেও তাঁকে নিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পের বিল পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য তাদের কাছে নেই। প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমান তালুকদারও স্বীকার করেন, শাহিন আলম নিজের লাইসেন্সে নয়, অন্য প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজটি পেয়েছেন। তবে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা প্রভাব ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক রমিজ মিয়া দাবি করেন, প্রকল্পটির প্রকৃত দায়িত্বে ছিলেন শাহিন আলম। তাঁর ভাষ্য, কাজের অগ্রগতি না থাকায় তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানান, তাঁর সম্পৃক্ততার সময় প্রায় ৯০ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছিল। এরপর আরও বিল তোলা হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহিন আলম ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।