https://www.voiceofpeople24.com/
4440
politics
প্রকাশিত : ০৬ জুন ২০২৬ ১১:০৯
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা। জাতীয় নির্বাচনে দলটির ৬৮টি আসনে বিজয়ের পেছনে মহিলা বিভাগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আসন্ন ইউপি, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনেও ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি, তবে আগামী আগস্টে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে জামায়াত। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে নারী সংগঠকদের তৎপরতা বেড়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জামায়াতের নেতারা বলছেন, গ্রাম ও মহল্লাভিত্তিক যোগাযোগ বাড়াতে মহিলা বিভাগের সদস্যরা নিয়মিত উঠান বৈঠক, পরিবারভিত্তিক মতবিনিময়, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং সামাজিক সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী পরিবেশ মূল্যায়নের কাজেও তাদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, জাতীয় নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার প্রার্থীদের প্রচারে সামনে রাখা হয়েছিল, যাতে তাঁরা সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি পান। একই ধারাবাহিকতায় মহিলা বিভাগের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও মহিলা বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদী। তিনি জানান, উঠান বৈঠকসহ নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম আগের মতোই চলছে এবং দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে। বর্তমানে তারা ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গেলে নানা ধরনের বাধা আসতে পারে। সে বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে এবার প্রচার-প্রচারণায় আরও কৌশলী ও পরিকল্পিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নারীদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও সরাসরি জনসংযোগ দলীয় প্রার্থীদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয়ভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। মূল দলের পাশাপাশি মহিলা বিভাগও সমানতালে মাঠে কাজ করছে এবং তারাও নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।