https://www.voiceofpeople24.com/
4439
national
প্রকাশিত : ০৬ জুন ২০২৬ ১০:৫৯
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্তে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে যেকোনো তথ্য বা মন্তব্যই গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হবে।
তবে বাংলাদেশ সরকার মমতার এই বক্তব্যকে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো বিষয়টিকে ভারতের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। এ ছাড়া মামলার বাদী হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নিহত ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি।
গত বছরের ডিসেম্বরে ওসমান হাদি হত্যার পর থেকেই ইনকিলাব মঞ্চ এই ঘটনায় ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে আসছে। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য সামনে আসার পর সেই অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে। সংগঠনটি এখন হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, জড়িতদের শনাক্তকরণ, ভারতে পালিয়ে থাকা আসামিদের ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে। শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও করেছে তারা।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর কলকাতার ধর্মতলায় এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের আলোচিত একটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তারের পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছিলেন।
বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে মমতা বলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা এক ‘বড় খুনি’কে পশ্চিমবঙ্গের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। পরে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, কারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত তা তিনি জানেন, তবে দেশের স্বার্থে সেই নাম প্রকাশ করবেন না।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে নদীয়ার শান্তিপুর এলাকা থেকে আরেক আসামি ফিলিপ সাংমাকেও আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে সীমান্ত পেরিয়ে আসামিদের ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
মামলার তদন্ত নিয়ে সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আলী আকবর খান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সব পক্ষের বক্তব্য ও সম্ভাব্য তথ্য যাচাই করছেন। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হবে।
ভারতে গ্রেপ্তার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে এবং এখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এদিকে মমতার বক্তব্যের পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ও মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের দাবি করেন, এতে স্পষ্ট হয়েছে যে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, মমতার বক্তব্য ভারতের নির্বাচনী রাজনীতির অংশ এবং এটি বাংলাদেশের আলোচনার বিষয় নয়। তবে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মমতার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় ভারত এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক খেলায় মেতে উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। মামলাটির তদন্ত শুরুতে ডিবি পুলিশ করলেও পরে আদালতের নির্দেশে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।
বর্তমানে মামলায় বাংলাদেশে ১১ জন এবং ভারতে তিনজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
এদিকে নিহতের বোন মাসুমা হাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন আবদুল্লাহ আল জাবেরকে মামলার বাদী করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও তারা পাননি।