https://www.voiceofpeople24.com/

4418

politics

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দিচ্ছে না জামায়াত-এনসিপি

প্রকাশিত : ০৪ জুন ২০২৬ ১৩:২০

সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রস্তাবিত ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’তে অংশ নেবে না জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। তাদের দাবি, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এ অবস্থান থেকে সরে গিয়ে কেবল সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

বিরোধী নেতাদের মতে, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সরকার চাইলে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কমিটিতে যোগ দেওয়া মানে শুধু সরকারের উদ্যোগকে বৈধতা দেওয়া। তাই তারা সংসদের পরিবর্তে রাজপথেই আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের কৌশল বেছে নিচ্ছেন।

এ লক্ষ্যেই আগামী ১৩ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ছয় বিভাগীয় শহরে ধারাবাহিক সমাবেশ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। এরই মধ্যে রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগস্টে ঢাকায় বড় সমাবেশ করারও পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়। তবে বিরোধী দল শুরু থেকেই এ প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা বলছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দলের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়। ফলে এমন কমিটিতে অংশগ্রহণের বাস্তব কোনো অর্থ নেই।

তিনি ২০১০ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির উদাহরণ টেনে বলেন, তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি সেই কমিটিতে অংশ নেয়নি। পরে নানা বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তার ভাষ্য, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কারের যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, সেটিই বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের রায় উপেক্ষা করে অন্য কোনো উদ্যোগে এনসিপি অংশ নেবে না।

যদিও বিরোধী দলগুলো কমিটিতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সরকারি সূত্র বলছে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। তবে বিরোধীদের সতর্কবার্তা, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তার রাজনৈতিক পরিণতি শুভ নাও হতে পারে।

জামায়াত, এনসিপি এবং তাদের মিত্রদের দাবি, গণভোটে ৬৮ শতাংশের বেশি ভোটার জুলাই সনদের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাই সংবিধানে আংশিক সংশোধন নয়, জনগণের রায়ের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারই হওয়া উচিত।