https://www.voiceofpeople24.com/
4413
sports
ফুটবল
প্রকাশিত : ০৪ জুন ২০২৬ ১০:২২
টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে বাংলাদেশ
মারগাওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে নেপালের আত্মঘাতী গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এই জয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নেপাল। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করে তারা বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে। ৩ ও ৯ মিনিটে রাশমি কুমারী এবং রেখা পৌডেলের প্রচেষ্টা গোলরক্ষক মিলি আক্তার রুখে দিলেও ২৩ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। দীপা শাহীর কর্নার থেকে গীতা রানা বল জালে পাঠিয়ে নেপালকে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পরও চাপে ছিল বাংলাদেশ। ৩৬ মিনিটে প্রীতি রাইয়ের দূরপাল্লার শট মিলি আক্তার অসাধারণ দক্ষতায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দলকে বড় বিপদ থেকে বাঁচান।
এরপর ম্যাচে পরিবর্তনের ছোঁয়া আনেন কোচ পিটার বাটলার। ৪০ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে মাঠে নামানোর পর বদলে যায় বাংলাদেশের খেলার চিত্র। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে সরাসরি বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান ঋতুপর্ণা চাকমা। তাঁর দৃষ্টিনন্দন ‘অলিম্পিক গোল’ বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমিয়ে তোলে লড়াই। ৪৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলে সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি নেপালের রেখা পৌডেল; তাঁর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে ৬৪ মিনিটে মনিকা চাকমার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৭২ মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন সাগরিকা। মাঠে নেমেই তিনি নেপালের ডিফেন্সে চাপ সৃষ্টি করেন। ৭৮ মিনিটে তাঁর শক্তিশালী শট দারুণভাবে প্রতিহত করেন নেপালের গোলরক্ষক আঞ্জিলা সুব্বা।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, তখনই বাংলাদেশের ভাগ্য খুলে যায়। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ডান দিক থেকে শামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো বল নেপালের দুই ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে নিজেদের জালেই ঢুকে যায়। সেই আত্মঘাতী গোলই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে।
রুদ্ধশ্বাস এই জয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। এখন শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ঋতুপর্ণা-সাগরিকারা।