https://www.voiceofpeople24.com/
5334
exclusive
ডা: এস.এম.আসাদুজ্জামান জুয়েল
প্রকাশিত : ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৩১
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের একান্ত ইচ্ছাতেই সৃষ্টি হলো আশরাফুল মাখলুকাত (সৃষ্টির সেরা জীব) মানুষ। মানুষকে নানা জ্ঞানে-বুদ্ধিতে, সাহসিকতায়, কৌলিন্যে, চালাকি-চতুরতায়, ধৈর্যে, মননশীলতায়, মানবিকতায়, সমাজ-জাতি বিনির্মাণের পার্থিব দক্ষতায় সমৃদ্ধ করেই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা। ব্যত্যয় নানা কারণে, নানা অসুখ, বিসুখে, নানা পরিবেশগত কারণে, নানা সংকটে ঘটে। মানব সৃষ্টির পর থেকেই প্রতিটি মানুষের জীবনকাল নানা ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমনটি বলা যায়-শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বার্ধক্য। একইভাবে মানুষের মস্তিষ্কের গঠন ও পূর্ণাঙ্গতা প্রাপ্তিতেও আল্লাহ পাক সময় নিয়েছেন সাত বছর। নিউরো বিজ্ঞানীদের (মস্তিষ্ক বিজ্ঞানীদের) গবেষণায় জানা যায়, মস্তিষ্কের ৯০ শতাংশ এক বছরে তৈরি হলেও বাকি ১০ শতাংশ তৈরি হতে আরো ৬ বছর লেগে যায়। মস্তিষ্ক (ইৎধরহ) কে যদি মানব তৈরি ইঞ্জিনের সাথে তুলনা করা হয়, তাতে মস্তিষ্ক হচ্ছে আল্লাহর অসীম কুদরতি ইঞ্জিন। কেননা, মানব তৈরি ইঞ্জিনের সামান্য একটি যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ নষ্ট হলেই যেমন যন্ত্রযানটি অকেজো হয়ে যায় বা সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায় (অধিকাংশ ক্ষেত্রেই) কিন্তু আল্লাহ সৃষ্ট মস্তিষ্কের আংশিক যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে (নানা কারণে) তা পূর্ণ অকেজো হয়না, তবে আচার-আচরণ, চলৎশক্তি, বাকশক্তি, সিদ্ধান্তহীনতা, রাগ-ক্ষোভ, অস্থিরতা, ভয়-ভীতি ইত্যাদি লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। রাগের ধরণ নানা বয়সে ও নানা কারণে নানা রকমের হয়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে রাগের ধরণ এক প্রকারের আবার মধ্যবয়সীদের ক্ষেত্রে অন্যরকম এবং বয়স্কদের মাঝে রাগের প্রকৃতি ভিন্ন ধরনের হয়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ব্রেন বা মস্তিষ্ক গধঃঁৎব বা পরিপক্ক না হওয়ার কারণে এক ধরনের রাগ হয় এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের আয়তন বা ভলিউম কমে বা ঈড়ৎঃরপধষ অঃৎড়ঢ়যু হয়ে এক ধরণের রাগ তৈরি হয়। আবার মধ্যবয়সীদের রাগের ক্ষেত্রে অবিবেচনা-বিবেচনা প্রসূত রাগ জন্ম নেয়। পূর্ণাঙ্গতাপ্রাপ্ত মস্তিষ্কের নিউরন (মস্তিষ্ককোষ) বৈদ্যুতিক অনুরণনে বা ঊষবপঃৎরপ ভরৎরহম-এ ইধষধহপরহম চধঃঃবৎহ এর কারণে মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব বা সম্মুখ মস্তিষ্ক খন্ডকের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান থাকে। ছোটদের রাগের মাত্রা তেমন বেশি নয়, কারণ এক্ষেত্রে ¯œায়ু বিজ্ঞানীদের মতে নিউরনের অপঃরড়হ চড়ঃবহঃরধষ বা বৈদ্যুতিক বহমানতা ংবমসবহঃ ঃড় ংবমসবহঃ দ্রুতলয়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও মস্তিষ্কের ঈড়ৎঃবী নামক স্তরের সংকোচনের ফলে ধীরলয়ের অপঃরড়হ চড়ঃবহঃরধষ ভৎড়হঃধষ খড়নব বা সম্মুখ খন্ডকে প্রবহমান। তাই এক্ষেত্রে ও রাগের মাত্রা ঁঢ়ং ধহফ ফড়হিং (উত্থান-পতন) এবং নীচু মাত্রার হয়। অপরপক্ষে, মধ্যবয়সীদের ক্ষেত্রে সুস্থ সম্মুখ খন্ডক ঋৎড়হঃধষ খড়নব হলে তাতে মৃদু ওৎৎরঃধঃরড়হ অনুভূত হলে সহনশীল মাত্রার রাগ তৈরি হয়। রোগ, আঘাত, স্ট্রোক ইত্যাদিতে আক্রান্তদের ফ্রন্টাল লোব আক্রান্ত হলে তাদের রাগ অতিমাত্রার হয়, যেটি ফ্রন্টাল লোব সিনড্রোম এর অংশক বলেই নিউরো বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন। কেননা, সহনশীল মাত্রার রাগ শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে রাগ মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার অংশ এবং অতিরাগ ফ্রন্টাল লোব সিনড্রোমের অংশক।
লেখক চিকিৎসক ও সাংবাদিক।