https://www.voiceofpeople24.com/
5217
exclusive
রাজনৈতিক শিষ্টাচারই কাম্য
প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৫৭
রাজার নীতি রাজনীতি-৬ষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস এবং রাজ যে নীতি রাজনীতি-বহুব্রীহি সমাস হলেও নীতি, কৌশলগুলো বড় বলেই হয়তো বৈয়াকরণগণ শব্দটিকে ব্যাকরণ তথা বাংলা এৎধসসধৎ এর অন্তর্ভুক্তি ঘটিয়েছেন। পেশাদারিত্বের বিচারেও ইদানীং রাজনীতি পেশা বিশ^ব্যাপী অন্যান্য যে-কোনো পেশার চেয়ে ঢের কদর পাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞাদের অভিমত। দূর অতীতে গ্যালিলিও, আর্কিমিডিস, সক্রেটিস, এ্যারিস্টোটল, পীথাগোরাস, ডারউইন, আইনস্টাইন, গ্রাহামবেল, ইব্নেসিনা, আলফ্রেড নোবেল: নিকট অতীতের পাকিস্তানের পরমাণু বোমার জনক ড: আব্দুস সালাম ও ভারতের পরমাণু বোমা ও ক্ষেপনাস্ত্র তৈরির জনক ড: এ.পি.জে আব্দুল কালাম সহ অনেকেই তাঁদের স্বীয় আবিষ্কার, তত্ত্ব ও মতবাদের কারণে বিশ^ব্যাপী কিশোর-যুবাদের মধ্যে বিখ্যাত এসব ব্যক্তি হওয়ার স্বপ্ন অনুরণিত হতো। অথচ, বর্তমানের বিশ^প্রেক্ষাপটে স্মাট ফোন, ফেসবুক, ইন্্স্টাগ্রাম, টুইটার, এ.আই (অৎঃরভরপরধষ ওহঃবষষরমবহপব), ড্রোন, নভোযান, পরমাণু বোমাসহ আধুনিক নানা ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন বিশ্বকে চমকে দিলেও এসবের উদ্ভাবকের পদাংক অনেকেই অনুসরণ করতে চায় না। বিশে^র অনেক দেশেই বিশেষত: তৃতীয় বিশে^র দেশগুলোর মধ্যে ইদানীং প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে রাজনীতি নামক জটিল সম্মানিত অথচ ঝুঁকিপূর্ণ পেশার প্রতি ছাত্র-যুবা-বৃদ্ধের আগ্রহ-আকর্ষণ ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। আগ্রহের কারণ, স্বল্প সময়ে নেতা হওয়া, বৈধ-অবৈধ অর্থের মালিক হওয়া যায় বলে অনেকেরই মত। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, দারিদ্র্যতার করাল গ্রাস যেখানে বিস্তৃত, নির্যাতন, নিষ্পেষণ, ফ্যাসিবাদ যেখানে প্রকট, মানবতা যেখানে দলিত-মথিত-রাজনীতি সেখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, তৈরি করে শেকল ভাঙার পরিবেশ। তবে এতে ঝুঁকি অনেক। তাই সব রাজনীতিই রাজনীতি নয়। রাজনীতি করতে হলে নিজেকে সততা, ত্যাগ, শিক্ষা, অধ্যবসায়, জ্ঞানে, গুণে, পরোপকারিতায়, বিশ^াসযোগ্যতা, চারিত্রিক নির্মলতায় শতভাগ ভরপুর হতে হবে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার যেমনটি বলা হয়-নানা দল, মতের মানুষের তথা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ওহঃবৎ- ৎবষধঃরড়হংযরঢ় গড়ে তুলতে হবে। অপ্রয়োজনে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি, মিথ্যা-প্রপাগান্ডা ছড়ানো, আন্দোলন সংগ্রাম বা তার হুমকি-ধামকি দেয়া যথাযথ হবে না এবং সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হতে হবে। সরকারি-বিরোধীদল মিলে জনকল্যাণে দেশ ও দশের উন্নয়নে পজিটিভ অপঃরারঃু- র মাধ্যমে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়া তথা শুদ্ধ আচারের নামই রাজনৈতিক শিষ্টাচার। পক্ষান্তরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অহেতুক গাল-মন্দ, অবিশ^াস, অসহযোগিতা, ভুল শুধরে না দিয়ে তা-তে আগুনে ঘি ঢালার মতো অবস্থা তৈরি করা, আলোচনার টেবিলে উভয় পক্ষ সরকার ও বিরোধীপক্ষ না বসা ইত্যাদি রাজনৈতিক আচার হলেও তা দলের, জনগণের ও দেশের মঙ্গল বয়ে আনেনা। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রাজনৈতিক শিষ্টাচারই হোক কাম্য, রাজনৈতিক আচার নয়।
লেখক: চিকিৎসক ও সাংবাদিক।