https://www.voiceofpeople24.com/

5207

economy

যুক্তরাষ্ট্র, হংকং ও চীনে যাচ্ছে কক্সবাজারের পোপা শুঁটকি

প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২০

 

রূপালী পোপা মাছ। এই মাছের শুঁটকির চাহিদা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, হংকং ও চীনে।  চাহিদা থাকলেও সাগরে মাছের সংকটের কারণে কমছে উৎপাদন ও রপ্তানি।

গত বছর কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছটার একটি কারখানা থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ৭০ মেট্রিক টন পোপা শুঁটকি যুক্তরাষ্ট্র, হংকং ও চীনে রপ্তানি করা হয়। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩০ মেট্রিক টন। এ বছর প্রায় ৮০ মেট্রিক টন রপ্তানির লক্ষ্য থাকলেও মাছের আহরণ কমে যাওয়ায় তা পূরণ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

দেশের সবচেয়ে বড় শুঁটকি উৎপাদনকেন্দ্র কক্সবাজার পৌরসভার নাজিরাটেক উপকূলে প্রায় ৭০০টি শুঁটকি মহাল রয়েছে। গত বছর এসব মহালে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদন হয়েছে। বিভিন্ন মাছের শুঁটকি উৎপাদন হলেও পোপা তৈরির প্রক্রিয়া আলাদা এবং মান নিয়ন্ত্রণও কঠোর।

গভীর সাগর থেকে বড়শি দিয়ে ধরা পোপা প্রথমে লবণমুক্ত করে পরিষ্কার করা হয়। এরপর নাড়িভুঁড়ি ফেলে ওয়াশিং ট্যাংকে ধুয়ে বাঁশের মাচায় রোদে শুকানো হয়। তিন-চার দিনে শুঁটকি তৈরি হলে ৩২টি গ্রেডে ভাগ করে প্যাকেটজাত করা হয়। পরে ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কোল্ড স্টোরেজে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি করা হয়। তিন কেজি কাঁচা পোপা থেকে পাওয়া যায় প্রায় এক কেজি শুঁটকি।

রপ্তানিযোগ্য পোপা শুঁটকির মান নিয়ে কোনো ছাড় নেই। বিদেশি ক্রেতাদের প্রতিনিধিরা কারখানায় উপস্থিত থেকে উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ তদারকি করেন। প্রক্রিয়াজাতকরণে ত্রুটি হলে রপ্তানির জন্য পুরো চালান অযোগ্য ঘোষিত হতে পারে।

জেলেদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগের তুলনায় সাগরে পোপা মাছের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে ১৮ প্রজাতির পোপা পাওয়া গেলেও এখন ধরা পড়ছে প্রায় ১২ প্রজাতি। বেশি দামে বিক্রি হয় কালো জাতের পোপা। নিম্নমানের বরফে সংরক্ষণ করলে শুঁটকির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় এখন অনেক জেলে মাছের পেটে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করছেন।