https://www.voiceofpeople24.com/
5244
opinion
ডা: এস.এম.আসাদুজ্জামান জুয়েল:
প্রকাশিত : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:২৫
‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি ’ বা ‘পাখি সব করে রব রাতি পৌহাইল বা শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে’ বা ‘কলা রুয়ে (রোপণ করে) না কেটো পাত (পাতা), তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’ ‘শিশু শিক্ষার’ প্রাক বাংলাদেশ আমলের শব্দগুচ্ছ এবং তৎপূর্ববর্তী খনার বচনের শব্দাবলী মানুষের মননশীলতাকে মানবিকতার যূগকাষ্ঠে ঋদ্ধ করে, শিশু ও প্রৌঢ়ত্বে শেখায় অধ্যবসায়ের অমোঘ বাণীব্যঞ্জনা। শিশুকাল থেকেই যদি পড়াশুনা, আদব-কায়দা, আচার আচরণ, সততা, শ্রদ্ধাবোধ, ¯েœহবোধ, সম্মানবোধ বুঝতে শেখে, পরবর্তীতে তা তার পরিবার ও দেশের আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে। তবে এর জন্য শিশুকাল থেকেই স্বীয় পড়াশুনায় মনোযোগ হতে হবে-যাকে বলা হয় অধ্যবসায়ী। অপর পক্ষে বিশিষ্ট বচন বিশারদ খনা ব্যক্ত করেছেন- কলাগাছ রোপণ করে তার পাতা কেটে না দিলে প্রচুর কদলী তাতে ধরবে যা বিক্রি করে চাষী সংসার চালাতে পারবে। এটিও মানুষকে অধ্যাবসায়ী ও স্বাবলম্বী হবার পথ দেখাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সাহিত্যিকদের সাহিত্য উপাদানে যদি কোমলমতি শিশু, কিশোর-যুবাদের মেধা মননে আদর্শিক শব্দ চয়ন, বাণী গুচ্ছের সামাজিক ও চরিত্র গঠনমূলক আবহ থাকে, তবে সমাজ মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। শিক্ষার অন্যান্য চত্বরেও স্বীয় সংস্কৃতির আদর্শিক অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে চৌর্য্যবৃত্তির শিক্ষাকে পরিহার করতে হবে। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, সমাজের সর্বস্তরেই যেমনটি বলা যায়-শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসায়, চিকিৎসা, রাজনীতিসহ সব উরংপরঢ়ষরহব এ ‘চর্চা’ বাড়াতে হবে। তবে চর্চাগুলো হতে হবে জ্ঞাননির্ভর, যুক্তিভিত্তিক, প্রতিযোগিতামূলক স্বীয় সমাজ-সংস্কৃতি নির্ভর, শ্রদ্ধাবোধ ¯েœহবোধের বন্ধনে জড়ানো শতভাগ খাঁটি চর্চা। বর্ণিত নানা চর্চার মধ্যে যদি রাজনৈতিক চর্চার কথা বলা হয়, তবে রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, মানুষের ন্যায় রাজনীতিরও আছে শিশু, যৌবন, প্রৌঢ় ও বার্ধক্য কাল। রাজনীতির চত্বরে সবে প্রবেশকালই শিশুকাল। স্বীয় আদর্শ অবলম্বন করে বা অন্য দলের আদর্শ ধারণ ও লালন করে রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র, ইশতেহার দেশীয় এবং বিশ^ রাজনীতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং প্রচুর পড়াশুনার ক্ষণই হচ্ছে রাজনীতির যৌবনকাল। রাজনৈতিক শিষ্টাচার শেখার এবং গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সুসম্পর্ক তৈরি ও প্রতিহিংসা নয় বরং প্রতিযোগিতা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার পজিটিভ মনোভাব তৈরির সময়ও রাজনীতির যৌবনকাল। কথা (?) না কাজ (?) বেশি, সেটির সময়ও এই যৌবনকাল। যৌবনে ঘাটতি থাকলে পৌঢ়ে তা পূরণ করা অনেকের জন্য কঠিনই বটে। তবে রাজনীতির প্রৌঢ়ত্ব আসে যৌবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, চর্চা, বাস্তবতা, বৈশি^ক প্রেক্ষাপট, দলীয় আশীর্বাদ, পদ-পদবি ও জনগণের অকুন্ঠ ভালোবাসায়। ফলে রাজনীতির প্রৌঢ়ত্বে জ্ঞান তথা প্রজ্ঞায় আসে পরিপূর্ণতা। বাক্য ব্যয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহ নানা পদক্ষেপে কৌশলী হতে হয়। উপরন্তু রাজনীতির বার্ধক্যে আসে ব্যর্থতা, রাজনৈতিক নির্বাসন। তাই রাজনীতি বিশ্লেষকদের ভাষ্য-রাজনীতির যৌবনে বাড়ে চর্চা এবং প্রৌঢ়ে বাড়ে প্রজ্ঞা।
লেখক: চিকিৎসক ও সাংবাদিক