https://www.voiceofpeople24.com/
4912
politics
রাজনীতি
প্রকাশিত : ২০ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৩
বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুল হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন জানিয়ে সবার কাছে দোয়া চান বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁকে ভোট দেওয়ার জন্য দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে এসব ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বেলা ২টায় শুরু হওয়া সভাটি প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, বক্তব্য দেওয়ার সময় কয়েক মিনিটের মধ্যে চার-পাঁচবার কান্নায় ভেঙে পড়েন মির্জা ফখরুল। তাঁর আবেগঘন বক্তব্যে সভাকক্ষে তৈরি হয় আবেগপূর্ণ পরিবেশ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।
সভা সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন এবং মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
চিফ হুইপ জানান, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মির্জা ফখরুলও নির্বাচনে ভোট দেবেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।
বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কার বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময়ে কোনো ভুল হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। দল তাঁকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, তা জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবেন না বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ ও মূল্য দিয়ে বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে দেশের সর্বস্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মির্জা ফখরুল দলের কঠিন সময়ে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি কখনো দলের হাল ছাড়েননি। এ সময়ে তাঁকে কারাবরণও করতে হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে একপর্যায়ে তারেক রহমানকে দেশের বাইরে অবস্থান করতে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন তারেক রহমান। স্থানীয় পর্যায়ে কিছু সংসদ সদস্যের সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দূরত্ব কোনোভাবেই বাড়তে দেওয়া যাবে না।
তিনি জানান, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। ফলে নির্বাচনটি আগের তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
গত সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অনেকে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে দলের চেয়ারম্যান বলেন, এবার যেন কেউ দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান না নেন, সে বিষয়ে আগেভাগেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিতে হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, সঠিক প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি তাঁদের বিজয় নিশ্চিত করতে দলীয়ভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বৈঠকে মির্জা ফখরুলের আবেগঘন বিদায়ী বক্তব্যের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তারেক রহমানের সাংগঠনিক নির্দেশনায় দলীয় ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক দূরত্ব কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।