https://www.voiceofpeople24.com/
4914
sports
প্রকাশিত : ২০ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৮
বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ব্রায়ান লারা। বিশেষ করে দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা কাছাকাছি সময়ে অবসর নিলে অস্ট্রেলিয়াকে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট দলের বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়ন। চারজনের বয়সই এখন ৩৩ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়ের নেতৃত্ব দেওয়া এই চার ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার এখন শেষ পর্যায়ের দিকে।
প্রত্যেকেরই টেস্ট ক্রিকেটে রয়েছে ৩০০-এর বেশি উইকেট। তাই তাঁদের বিদায়ের পর নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন লারা।
‘কোড স্পোর্টস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লারা বলেন, ক্রিকেটারদের অবসরের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে পরিবর্তন হওয়াই ভালো। তাঁর মতে, একসঙ্গে একজন বা দুজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় অবসর নিলে তা সামাল দেওয়া সম্ভব। কিন্তু একই সময়ে চার-পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার বিদায় নিলে দলের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
লারা বলেন, একসঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অবসর নিলে তাঁদের জায়গা পূরণ করা এবং তরুণদের দিয়ে দ্রুত একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলা কঠিন হবে। বিশেষ করে অভিজ্ঞদের কাছ থেকে শেখার সুযোগও কমে যাবে নতুনদের।
অস্ট্রেলিয়াকে সতর্ক করতে গিয়ে নিজের দলের অতীতের উদাহরণও সামনে এনেছেন লারা। ১৯৯২ সালের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার অল্প সময়ের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছিলেন।
গর্ডন গ্রিনিজ, ভিভ রিচার্ডস, ম্যালকম মার্শাল ও জেফ ডুজনের মতো তারকারা তখন একে একে অবসর নেন। এর পরের সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের বড় দায়িত্ব এসে পড়ে লারার ওপর। পরবর্তীতে শিবনারাইন চন্দরপল ও ক্রিস গেইলের মতো ক্রিকেটাররা দলে জায়গা করে নেন।
লারা বলেন, তাঁদের সময়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একসঙ্গে একাধিক অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে হারানোর পর দলের ভারসাম্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতার মিল দেখিয়ে লারার পরামর্শ, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বিদায় যেন একসঙ্গে না হয়। ধাপে ধাপে নতুনদের সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যৎ দল তৈরি করাই হবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য নিরাপদ পথ।