https://www.voiceofpeople24.com/
4909
sylhet
প্রকাশিত : ২০ আগস্ট ২০২৬ ১১:০৫
ইউরোপে যাওয়ার আশায় দালালদের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে গ্রিসে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচ যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের কেউ ২০ দিন, আবার কেউ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগহীন। স্বজনদের দাবি, লিবিয়া থেকে নৌপথে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রার পরই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
নিখোঁজ যুবকেরা হলেন—রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামের জুয়েল আহমদ টিপু (২৩), গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহ (২৮), কলকলিয়া ইউনিয়নের হিজলা গ্রামের ইউসুফ আলী (২০), সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের কুড়িকেয়ার গ্রামের সায়েক মিয়া (২৪) এবং চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া গ্রামের রুবেল মিয়া (৩৫)।
পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউরোপে পাঠানোর জন্য দালালদের সঙ্গে জনপ্রতি কয়েক লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তি করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর গ্রিসে যাওয়ার জন্য নৌযানে ওঠেন। এরপর থেকেই তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহকে লিবিয়া হয়ে গ্রিসে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্থানীয় দালাল আজিজের সঙ্গে ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকার চুক্তি করেছিলেন তাঁর পরিবার। প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি দেশ ছাড়েন। গত ৩ আগস্ট রাতে লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
হাবিবের বড় ভাই আব্দুল্লাহ জানান, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভাইয়ের সঙ্গে তাঁদের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকে দালালের সঙ্গেও যোগাযোগ করে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
বাগময়না গ্রামের জুয়েল আহমদ টিপু প্রায় ছয় মাস আগে এক দালালের মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকার চুক্তিতে লিবিয়া যান। গত ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশে নৌযানে ওঠার পর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
জুয়েলের মামা সাফি তালুকদার বলেন, ৩ আগস্ট দুপুরে পরিবারের সঙ্গে জুয়েলের সর্বশেষ ফোনে কথা হয়। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
তবে দালালের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জুয়েল মিসরের একটি হাসপাতালে জীবিত আছেন। কিন্তু এ দাবির পক্ষে পরিবারের কাছে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য বা প্রমাণ নেই।
হিজলা গ্রামের ইউসুফ আলী এবং কুড়িকেয়ার গ্রামের সায়েক মিয়া একই সঙ্গে বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। তাঁদের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই তাঁরা চিলাউড়া গ্রামের এক দালালের মাধ্যমে লিবিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। পরে লিবিয়ায় পৌঁছে প্রায় এক মাস আগে গ্রিস যাওয়ার জন্য নৌযানে ওঠেন তাঁরা।
এরপর থেকে দুজনের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।
ইউসুফ আলীর বাবা ছালিক মিয়া বলেন, তাঁর ছেলে ও আত্মীয় সায়েক একই সঙ্গে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন এবং একই সময়ে নিখোঁজ হন। এক মাস পার হলেও দালাল তাঁদের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারেনি।
চিলাউড়া গ্রামের রুবেল মিয়াও প্রায় এক মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগহীন। তাঁর স্বজনেরা এখনো আশা করছেন, যেকোনো সময় তাঁর বিষয়ে ভালো কোনো খবর পাওয়া যাবে।
পাঁচ যুবকের নিখোঁজের ঘটনায় তাঁদের পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্বজনেরা দালালদের কাছ থেকে সঠিক তথ্য ও সরকারি সহায়তা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দীন বলেন, নিখোঁজ যুবকদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে।