https://www.voiceofpeople24.com/

4473

sylhet

মৌলভীবাজার

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে কমলগঞ্জে তদন্ত শুরু

প্রকাশিত : ০৯ জুন ২০২৬ ১৫:৩০

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রোগীদের পথ্য (খাবার) সরবরাহের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান নাফি এন্টারপ্রাইজ সিলেটের উপপরিচালক (স্বাস্থ্য) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। তাদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতার কার্যাদেশ পাওয়ার কথা থাকলেও তা উপেক্ষা করে তৃতীয় দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতিতে রোগীদের খাবার সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। ১৬ মার্চ দরপত্র খোলার পর দেখা যায়, মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ ৩০ লাখ ২২ হাজার ২২০ টাকা দর দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়। নাফি এন্টারপ্রাইজ ৩০ লাখ ৫১ হাজার ৭৯০ টাকা দর দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে এবং জুনেদ জাহেদ ট্রেডার্স ৩০ লাখ ৫২ হাজার ১৭০ টাকা দর দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল। আরিয়ান ট্রেডার্স ৩১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০০ টাকা দর দিয়ে চতুর্থ স্থানে ছিল।

অভিযোগে বলা হয়, দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা নাফি এন্টারপ্রাইজের চেয়ে মাত্র ৩৮০ টাকা বেশি দর থাকা সত্ত্বেও নিয়ম উপেক্ষা করে তৃতীয় দরদাতা জুনেদ জাহেদ ট্রেডার্সকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া দরপত্র প্রক্রিয়া ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রায় দুই মাস আট দিন পর ঈদের ছুটির ঠিক আগে তড়িঘড়ি করে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

নাফি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে আমাদের কাজ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা ব্যাখ্যা চেয়েও সন্তোষজনক জবাব পাইনি। আমাদের ধারণা, অভ্যন্তরীণ প্রভাব বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের টেন্ডার কার্যক্রমে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর দুলাল মিয়ার প্রভাব রয়েছে। টেন্ডার কমিটির একাধিক সদস্য বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলেও দাবি উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।”

এদিকে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন মো. মামুনুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট একজনকে প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পৃথকভাবে বিভাগীয় তদন্তও পরিচালনা করা হবে।