https://www.voiceofpeople24.com/
5193
international
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০২
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে তারা। এরপর এক নজিরবিহীন চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলসম্পদের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সেই সামরিক অভিযান ও তেলচুক্তির মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র টানলেন।
একমুহূর্তের জন্য চোখের পলক না ফেলে ট্রাম্প বললেন, ‘যুদ্ধে যে বিজয়ী, লুটের মালামাল সে–ই পাবে, এটাই নিয়ম। সে কথা তো আপনারা জানেন, তাই না?’
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলাকে একসঙ্গে ধরলে বিশ্বের ৬০ শতাংশের বেশি তেল এখন তাদের হাতে।
৮০ বছর আগে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যুদ্ধ ঠেকাতে, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে, শান্তি বিঘ্নিত হলে সম্মিলিত ব্যবস্থা নিতে। সেই জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বললেন, প্রয়োজনে তিনি যুদ্ধ করবেন। বিজয়ের পুরস্কার হিসেবে পরাজিত দেশের মূল্যবান সম্পদে ভাগ বসাবেন। যেন এতে প্রশ্নের কিছু নেই, বিস্ময়েরও কিছু নেই।
একই ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে।’ এই শক্তি কতটা অপ্রতিরোধ্য, তার উদাহরণ হিসেবে তিনি ইরানকে টেনে আনলেন।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে—ইরানের সঙ্গে চুক্তি করব, নাকি ইসলামিক রিপাবলিককে নিশ্চিহ্ন করে দেব।’
এরপর ট্রাম্প প্রশ্ন করলেন, ইরানকে কি এমনভাবে ‘নরকে পাঠাবেন’, যাতে তার টিকে থাকার বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কোনো আশা না থাকে।
ফলো করুন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন তিনি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন তিনিছবি: এএফপি
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে তারা। এরপর এক নজিরবিহীন চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলসম্পদের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সেই সামরিক অভিযান ও তেলচুক্তির মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র টানলেন।
একমুহূর্তের জন্য চোখের পলক না ফেলে ট্রাম্প বললেন, ‘যুদ্ধে যে বিজয়ী, লুটের মালামাল সে–ই পাবে, এটাই নিয়ম। সে কথা তো আপনারা জানেন, তাই না?’
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলাকে একসঙ্গে ধরলে বিশ্বের ৬০ শতাংশের বেশি তেল এখন তাদের হাতে।
আরও পড়ুন
ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি, চুক্তিতে পৌঁছারও প্রত্যাশা ট্রাম্পের
১১ ঘণ্টা আগে
ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি, চুক্তিতে পৌঁছারও প্রত্যাশা ট্রাম্পের
৮০ বছর আগে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যুদ্ধ ঠেকাতে, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে, শান্তি বিঘ্নিত হলে সম্মিলিত ব্যবস্থা নিতে। সেই জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বললেন, প্রয়োজনে তিনি যুদ্ধ করবেন। বিজয়ের পুরস্কার হিসেবে পরাজিত দেশের মূল্যবান সম্পদে ভাগ বসাবেন। যেন এতে প্রশ্নের কিছু নেই, বিস্ময়েরও কিছু নেই।
একই ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে।’ এই শক্তি কতটা অপ্রতিরোধ্য, তার উদাহরণ হিসেবে তিনি ইরানকে টেনে আনলেন।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে—ইরানের সঙ্গে চুক্তি করব, নাকি ইসলামিক রিপাবলিককে নিশ্চিহ্ন করে দেব।’
এরপর ট্রাম্প প্রশ্ন করলেন, ইরানকে কি এমনভাবে ‘নরকে পাঠাবেন’, যাতে তার টিকে থাকার বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কোনো আশা না থাকে।
জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের এমন হুমকি অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ২০১৭ সালে সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণেও তিনি উত্তর কোরিয়াকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার হুমকি দিয়েছিলেন।
৯ বছর পর ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিলেন, এটি কোনো তাৎক্ষণিক মুখ ফসকানো কথা নয়, শক্তি প্রয়োগের অধিকার সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বাসেরই পুনরাবৃত্তি।
অথচ ২০১৭ সালের সেই ভাষণে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কারও ওপর নিজের জীবনধারা চাপিয়ে দিতে চায় না; বরং শক্তিশালী, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলো পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে পাশাপাশি কাজ করবে।
কিন্তু গতকালের ভাষণে সেই সার্বভৌমত্বের ধারণাই উল্টে গেল। এখন যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিরঙ্কুশ। কিন্তু দুর্বল দেশের সার্বভৌমত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থের’ অধীন।
জাতিসংঘের জন্ম হয়েছিল এই বিশ্বাস থেকে যে সামরিক বিজয় কোনো দেশকে পরাজিত জনগণের ভূমি ও সম্পদের মালিক বানায় না। অথচ সেই মঞ্চে দাঁড়িয়েই ট্রাম্প ঘোষণা করলেন, বিজয়ীরই অধিকার লুটের মালে।