https://www.voiceofpeople24.com/

4721

national

পোশাকশিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টরই হতে পারে অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৬ জুলাই ২০২৬ ১০:০৮

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাকশিল্পের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আগামী দিনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প। এই খাতের বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

শনিবার ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষি, পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় ও ডিজিটাল সেবায় অর্জিত সাফল্যের পর দেশের মেধাবী তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর খাত থেকে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি আয় অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য পূরণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, প্রবাসী বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞ শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কাঁচামালের ওপর সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার রপ্তানি আয়ে নগদ প্রণোদনা চালু এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদান বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাই-টেক পার্ক আধুনিকায়নের পাশাপাশি একটি বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

দুই দিনব্যাপী এই সামিটের লক্ষ্য বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বায়োটেকনোলজি ও রোবোটিকস খাতের সম্ভাবনা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা। এতে দেশ-বিদেশের নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী, গবেষক, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা অংশ নিয়েছেন।

সামিটের অংশ হিসেবে আয়োজিত বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬-এ ৩৫টি স্টলে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শিত হয়। এছাড়া সমাপনী দিনে সেমিকন্ডাক্টর খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ট্যালেন্ট রোডম্যাপ, ইকোসিস্টেম পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব কাঠামোসহ আটটি কৌশলগত জাতীয় দলিল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।