https://www.voiceofpeople24.com/
4723
whole-country
মৌলভীবাজার
প্রকাশিত : ২৬ জুলাই ২০২৬ ১২:২৪
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর এলাকার একটি রিসোর্টে অতিথির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে অর্থ দাবি এবং পরে সংঘর্ষের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই আলোচনায় আসা রিসোর্টটির নাম পরিবর্তন করে ‘মেঘ মালতি’ থেকে ‘বেলা শেষে’ রাখা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই অপূর্ব সূত্রধর নামে এক যুবক এক তরুণীকে নিয়ে রিসোর্টটির ১০১ নম্বর কক্ষে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেন। পরে রিসোর্ট ত্যাগ করার পর তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত ছবি পাঠিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরদিন বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রিসোর্টে গেলে ব্যবস্থাপকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অপূর্বের দাবি, প্রশাসনের উপস্থিতিতে আলোচনার পর তিনি কোনো অর্থ দেননি।
তবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, অপূর্ব একটি স্ক্রিনশট দেখিয়ে অভিযোগ তুললেও পরে তাঁর সঙ্গীরা রিসোর্টে এসে কর্মীদের মারধর করেন এবং উল্টো অর্থ দাবি করেন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং কোনো টাকা লেনদেন হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, যে মোবাইল নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছিল, সেটি রিসোর্টের সাবেক কর্মী নাসিরের নামে নিবন্ধিত। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে রিসোর্টটির নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ব্যবস্থাপক জানান, মালিকপক্ষই নতুন নাম ‘বেলা শেষে’ নির্ধারণ করেছে।
ঘটনার সময় উপস্থিত রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাশ বলেন, অপূর্ব যে ছবিটি দেখিয়েছেন, সেটির পটভূমি রিসোর্টের কক্ষের সঙ্গে মেলে না। তাঁর ধারণা, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ফরেনসিক পরীক্ষা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সরকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ জমা পড়েনি। অপূর্ব সূত্রধরও পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে এবং বর্তমানে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই।