https://www.voiceofpeople24.com/

4614

sports

হালান্ডের নৈপুণ্যে ব্রাজিল বিদায়, উচ্ছ্বাসে নরওয়ে

প্রকাশিত : ০৬ জুলাই ২০২৬ ১৩:৩৬

ব্রাজিলের বিপক্ষে কখনো হারেনি নরওয়ে—ফুটবল ইতিহাসের এই বিরল পরিসংখ্যান এবার আরও সমৃদ্ধ হলো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে। নিউ জার্সির মঞ্চে আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে। অন্যদিকে, ৩৬ বছর পর আবারও শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো ব্রাজিলকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নরওয়ে। তৃতীয় মিনিটেই প্যাট্রিক বার্গ বল জালে পাঠিয়েছিলেন, তবে আলেক্সান্ডার সোরলথ অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়। সেই ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ব্রাজিল।

১১তম মিনিটে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা। মাথিয়াস কুনিয়াকে বক্সের ভেতরে ফাউল করার ঘটনায় রিপ্লে দেখে স্পটকিকের নির্দেশ দেন রেফারি। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্রুনো গিমারেস। তাঁর নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ড। সেই সেভই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এরপর প্রথমার্ধজুড়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও কুনিয়াদের একের পর এক আক্রমণ রুখে দেন নিল্যান্ড। বিরতির পরও একই দৃশ্য। ৪৭তম মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের শট ঠেকিয়ে ব্রাজিলকে বাঁচান আলিসন, তবে নরওয়ের চাপ কমেনি।

গোলের খোঁজে দ্বিতীয়ার্ধে এনদ্রিক এবং পরে নেইমারকে মাঠে নামান ব্রাজিল কোচ। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি দলটি। বরং ৭৯তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রসে বক্সের মাঝখানে উঠে দুর্দান্ত হেডে আলিসনকে পরাস্ত করেন আর্লিং হালান্ড। এগিয়ে যায় নরওয়ে।

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে নামে ব্রাজিল। এনদ্রিকের একটি প্রচেষ্টা ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রায় আত্মঘাতী গোল করে বসেছিলেন ক্রিস্টোফার আজের। তবে নিল্যান্ডের অসাধারণ সেভের পর বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরে কাসেমিরোও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।

ব্রাজিল যখন সমতাসূচক গোলের জন্য মরিয়া, তখনই শেষ আঘাত হানেন হালান্ড। ৯০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে তাঁর শক্তিশালী বাঁ পায়ের শট আলিসনকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। জোড়া গোলে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতটিতে নিয়ে যান নরওয়ের এই তারকা ফরোয়ার্ড। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির সঙ্গে সমানতালে লড়াইয়ে রয়েছেন তিনি।

যোগ করা সময়ে কাসেমিরোকে বক্সে ফাউল করলে দ্বিতীয়বারের মতো পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। এবার স্পটকিক থেকে কোনো ভুল করেননি নেইমার। তাঁর গোলে ব্যবধান ২-১ হলেও ম্যাচে ফেরার জন্য সেটি যথেষ্ট ছিল না।

শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠে নরওয়ে। ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস গড়ে তারা। আর ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আরও একবার থেমে গেল শেষ ষোলোর বাধাতেই।