https://www.voiceofpeople24.com/

5203

sylhet

সুনামগঞ্জের রত্নগর্ভা মা জাহানারা রউফ, ১১ সন্তানই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত

প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৩৯

 

সুনামগঞ্জের একজন মহীয়সী নারী আলহাজ্ব মোছা. জাহানারা রউফ। তিনি শুধু একজন মা নন, একজন ‘রত্নগর্ভা মা’ হিসেবে গর্বিত এক পরিবারের প্রতিচ্ছবি। তাঁর ১১ সন্তান—৭ ছেলে ও ৪ মেয়ে—নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য অবদান রেখে চলেছেন।

 

 

আলহাজ্ব মোছা. জাহানারা রউফ ১৯৫১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হরিণাপাটী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম হাজী আব্দুর রহিম তালুকদার এবং মা মরহুম মেহেরজান বিবি। তাঁর স্বামী সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার উজানীগাঁও গ্রামের কৃতী সন্তান মরহুম আলহাজ্ব আব্দুর রউফ, যিনি সবার কাছে ‘রউফ স্যার’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি সরকারি জুবিলি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন।

 

 

এই আলোকিত দম্পতির ১১ সন্তানই শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত। তাঁদের সন্তানদের পরিচয়—

 মোঃ আজিজুর রউফ বিপ্লব—জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি সুনামগঞ্জ জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী।

মোঃ মাসুদুর রউফ পল্লব—দ্বিতীয় পুত্র। তিনি শান্তিগঞ্জের আব্দুল মজিদ কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মোঃ মাহমুদুর রউফ দুর্লভ—তৃতীয় পুত্র। তিনি এম.কম ডিগ্রি অর্জন করে সিলেটে একজন সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

মোঃ মিজানুর রউফ সুলভ—চতুর্থ পুত্র। তিনি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে সিলেটের ‘এমএনএএন’ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে জেনারেল ম্যানেজার পদে কর্মরত আছেন।

মোঃ মাহবুবুর রউফ নয়ন—পঞ্চম পুত্র। তিনি ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার, ইউকে-তে এমএ গবেষক। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘জেসেটা ডট কম’-এ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার পদে কর্মরত। মোঃ মতিউর রউফ চয়ন—ষষ্ঠ পুত্র। তিনি ট্রাস্ট ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত। মোঃ মিসবাউর রউফ জীবন—সপ্তম পুত্র। তিনি ট্রাস্ট ব্যাংকের শাহজালাল উপশহর শাখা, সিলেটে অফিসার হিসেবে কর্মরত।

 

 

চার কন্যার মধ্যে মোছা. পারভিন ফেরদৌসি লূছি—বড় কন্যা। তিনি সিলেটের একটি বেসরকারি হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক।

মোছা. নাসরিন ফেরদৌসি ডেইজি—দ্বিতীয় কন্যা। তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মোছা. নাজনীন ফেরদৌসি নাইসি—তৃতীয় কন্যা। তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে সরকারি চাকরি ছেড়ে বর্তমানে স্থায়ীভাবে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। মোছা. শারমিন ফেরদৌসি ইতি ছোট কন্যা। তিনি একটি বেসরকারি হাইস্কুলের শিক্ষক।

 

 

 

সন্তানদের এমন সাফল্যের পেছনে জাহানারা রউফের দীর্ঘ ত্যাগ, মমতা, আদর্শ ও পারিবারিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সন্তানদের সুশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘সফল জননী ও রত্নগর্ভা মা’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন।

 

গতকাল ছিল এই মহীয়সী নারীর জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনে পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আন্তরিক শুভকামনা।

একজন মায়ের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন তাঁর সন্তানদের সাফল্য। সেই অর্থে জাহানারা রউফের জীবন যেন এক সফল জননীর গর্বগাথা—যেখানে ১১ সন্তানের প্রতিষ্ঠা তাঁর দীর্ঘ জীবনের ত্যাগ, ভালোবাসা ও আদর্শের এক অনন্য প্রতিফলন।