https://www.voiceofpeople24.com/
4536
sports
প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০২৬ ০১:৪৮
ফুটবল ইতিহাসে জিনেদিন জিদান এমন এক নাম, যার পরিচয় আলাদা করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ফ্রান্সের জার্সিতে বিশ্বকাপ ও ইউরো জয়ের নায়ক, মাঠের এক অনন্য শিল্পী এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। তাই জিদান পরিবারের কাউকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেখলে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের ধারণা হবে, তিনি ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই পরিচিত ছবিটা বদলে গেছে।
জিদানের ছেলে লুকা জিদান এবার মাঠে নামছেন আলজেরিয়ার জার্সিতে। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া এবং সেখানেই বেড়ে ওঠা এই গোলরক্ষক বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত আলজেরিয়ার ২৬ সদস্যের দলে জায়গা করে নিয়েছেন। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে—ফরাসি কিংবদন্তির ছেলে কেন ফ্রান্স নয়, আলজেরিয়াকে বেছে নিলেন?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে তার পারিবারিক শেকড়ে।
যদিও জিনেদিন জিদানের জন্ম ফ্রান্সে, তার পরিবারের মূল শিকড় আলজেরিয়ায়। তার বাবা-মা ছিলেন আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত অভিবাসী। ফলে জিদান পরিবারে ফরাসি পরিচয়ের পাশাপাশি আলজেরিয়ান সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আবেগও সমানভাবে উপস্থিত ছিল।
লুকার বেড়ে ওঠার সময়ও সেই পারিবারিক বন্ধন গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে তাকে। বিশেষ করে তার দাদা তাকে আলজেরিয়ার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পারিবারিক শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করে তুলেছিলেন। জাতীয় দল বেছে নেওয়ার সময় সেই সম্পর্কই বড় ভূমিকা রাখে।
লুকা নিজেই একাধিকবার বলেছেন, আলজেরিয়া তার কাছে শুধু একটি দেশ নয়; এটি তার পরিবারের ইতিহাসের অংশ। সেই আবেগ থেকেই তিনি পূর্বপুরুষদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অবশ্য বাস্তবতার বিষয়টিও ছিল। ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলে খেললেও কখনো সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পাননি তিনি। অন্যদিকে আলজেরিয়া তাকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেছে। জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ ও ফেডারেশনের আগ্রহ তাকে সিদ্ধান্ত নিতে আরও উৎসাহিত করেছে।
আলজেরিয়ার হয়ে অভিষেকের পর খুব দ্রুতই নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন লুকা। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে প্রথম বড় টুর্নামেন্ট ম্যাচেই ক্লিনশিট রেখে নজর কাড়েন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষকদের একজন হয়ে ওঠেন।
আরও একটি বিষয় তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। ক্লাব ফুটবলে সাধারণত তিনি জার্সির পেছনে ‘লুকা’ নামটি ব্যবহার করেন। কিন্তু আলজেরিয়ার হয়ে খেলতে গিয়ে বেছে নিয়েছেন ‘জিদান’ নামটি। তার মতে, এটি শুধু তার বাবার পরিচয় নয়; বরং পুরো পরিবারের ইতিহাস ও উত্তরাধিকারের প্রতীক।
ছেলের এই সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন জিনেদিন জিদানও। তিনি বরাবরই মনে করেন, জাতীয় দল নির্বাচন একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং সেটি নিজের ইচ্ছাতেই নেওয়া উচিত।
তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার গোলপোস্টে যখন দাঁড়াবেন লুকা জিদান, তখন তিনি শুধু একজন গোলরক্ষক হিসেবে নয়, বরং নিজের শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ককে সম্মান জানানো একজন ফুটবলার হিসেবেও আলোচনায় থাকবেন।
বিশ্বকাপজয়ী বাবার পথ অনুসরণ না করলেও তিনি বেছে নিয়েছেন নিজের পথ। আর সেই পথের গন্তব্য আলজেরিয়া—একটি দেশ, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার পরিবারের ইতিহাস, আবেগ এবং পরিচয়ের গল্প।