https://www.voiceofpeople24.com/
4525
sylhet
প্রকাশিত : ১৮ জুন ২০২৬ ১০:০৪
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় আড়াই বছর পর অবশেষে চালুর অনুমোদন পেয়েছে সিলেটের নবনির্মিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল। সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালটির প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়ায় পূর্ণাঙ্গভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসপাতালটির অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণের আরও বেশি সুযোগ পাবেন। এ উপলক্ষে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার পাশে প্রায় ৬ দশমিক ৯৮ একর জমির ওপর হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়। একসময় এই স্থানে ছিল ঐতিহাসিক আবু সিনা ছাত্রাবাস, যেখানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা থাকতেন। ছাত্রাবাসটি সংরক্ষণের দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে আন্দোলন হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি ভেঙে হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে মূল নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। ১৫ তলা ভিত্তির ওপর নির্মিত ভবনের প্রথম ধাপের ৮ তলার কাজ ২০২৩ সালে সম্পন্ন হয়।
তবে ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পর হাসপাতালটির দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকবে—ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জন কার্যালয় নাকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর—এ নিয়ে দীর্ঘদিন প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়। প্রায় দেড় বছর ধরে চলা এই টানাপোড়েনের কারণে হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হাসপাতালটির দায়িত্ব সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার মেলে চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন।
হাসপাতালটিতে আইসিইউ, সিসিইউ, অপারেশন থিয়েটারসহ আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার অবকাঠামো রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল নিশ্চিত হওয়ার পরই পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা সম্ভব হবে।
সম্প্রতি সিলেটে অনুষ্ঠিত এক সুধী সমাবেশে হাসপাতালটিকে ভবিষ্যতে ১ হাজার ২০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা এই আধুনিক হাসপাতালটি দ্রুত চালু হয়ে সিলেটবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।