https://www.voiceofpeople24.com/
4513
national
শিগগির মন্ত্রিসভায় উত্থাপন
প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০২৬ ২১:৩৩
আলোচিত-সমালোচিত এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন আইনের একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
খসড়া আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান অধ্যাদেশ, ১৯৭৯’-এর আওতায় গঠিত র্যাব বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের সহায়ক বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে এসআরবি গঠন করা হবে।
বর্তমানে খসড়া আইনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এতে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে, তবে মৌলিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে। শিগগিরই এটি মন্ত্রিপরিষদের প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে নীতিগত অনুমোদনের জন্য আবারও মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। সংসদে বিল পাস হলে তা আইনে পরিণত হবে।
এর আগে র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনে কাজ করছে সরকার।
সূত্রগুলো বলছে, নতুন বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। র্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা বিতর্কের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এসআরবির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গণমুখিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
খসড়া অনুযায়ী, র্যাবের সব সম্পদ, তহবিল, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, নথিপত্র, অধিকার ও দায়দায়িত্ব এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে র্যাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও পূর্বের চাকরির শর্ত বহাল রেখে এসআরবিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
নতুন বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, সন্ত্রাস দমন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা এবং সরকার বা আদালতের নির্দেশে তদন্ত পরিচালনা। এছাড়া প্রবেশ, তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকবে এসআরবির।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, র্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে নানা অভিযোগ থাকলেও বাহিনীটিতে দক্ষ জনবল রয়েছে। তাই নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি সদস্যদের জবাবদিহি ও মানবাধিকার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২০০৪ সালে গঠিত র্যাব শুরু থেকেই ক্রসফায়ার, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে সমালোচিত হয়ে আসে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, জাতিসংঘের সুপারিশ এবং গুম তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে র্যাবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।
এমন প্রেক্ষাপটে সরকার র্যাবের পরিবর্তে নতুন কাঠামোতে এসআরবি গঠনের পথে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।