https://www.voiceofpeople24.com/
5141
international
প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫০
যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছে সর্বোচ্চ ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দেশটির কংগ্রেসকে অবহিত করেছে। প্রায় ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি বাস্তবায়িত হবে বলে জানা গেছে। তবে চুক্তির ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন ইয়েমেনের হুথিদের হামলা নিয়ে সৌদি আরব চাপের মধ্যে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই (এমইই) কয়েক মাস ধরে এ চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে প্রতিবেদন করে আসছিল। গত বছরের নভেম্বরে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের আওতায় সৌদি আরবের এফ-৩৫ কেনার বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের হোয়াইট হাউসে সফরের সময় ওই প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব চূড়ান্ত হয়।
এরপর গত ডিসেম্বরে এমইই জানায়, সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েলের ‘কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ’ বা সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বছরের শুরুতে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা কংগ্রেসের ক্যাপিটল হিলে এ বিষয়ে একাধিক বৈঠকও করেন।
চুক্তিটি এগিয়ে নিতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান চলতি গ্রীষ্মে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা এমইইকে জানিয়েছেন।
হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে রয়েছে সৌদি আরব। অন্যদিকে ইয়েমেনে সৌদি আরবের সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। এমইইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো অংশের পাশাপাশি বাব আল-মান্দাব প্রণালির আরব উপসাগরমুখী অংশের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে।
সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির বিরোধিতা করে আসছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফলে মার্কিন ঘোষণাটি তাঁর অবস্থানের জন্য একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌদি আরব এফ-৩৫ পেলে চীনের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি চলে যেতে পারে-এমন আশঙ্কা রয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মহলের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমসও মার্কিন প্রশাসনের ঘোষণার এক দিন আগে এ ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।