পরিবেশ উন্নয়নে টারশিয়ারি হাসপাতালে যা করা যেতে পারে
বলা হয়-‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস (যদিও আল্লাহই সকল ক্ষমতার মালিক) কথাটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর বিশ^ব্যাপী রাজনৈতিক বক্তব্য। তবে দেশে দেশে আর্থিক ও রাষ্ট্রকাঠামোর তারতম্যের কারণে বাণীটি কোথাও শতভাগ সত্য, কোথাও আংশিক সত্য আবার কোথাও মোটেও সত্য নহে। অনুন্নত দেশে গণতন্ত্রের ভাষা একরকম, উন্নয়নশীল দেশের আরেক রকম এবং উন্নত দেশের অন্যরকম। যে দেশে যে রীতি বলেও কেউ কেউ মত প্রকাশ করেন। তবে মোদ্দা কথা হচ্ছে, সরকার যে দেশেরই হোক জনগণকে সেবা তাকে দিতেই হবে। আর সেবার ক্ষেত্র নানা ভাগে বিভাজিত। মৌলিক সেবা খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান সেবা হচ্ছে- স্বাস্থ্যসেবা। ‘সুস্থতাই স্বাস্থ্য’ শ্লোগান চিকিৎসক সমাজে বহুল প্রচলিত হলেও জনসেবায় এর প্রয়োগিক অবস্থা কি তার প্রশ্নটি সামনে এসেই যায়। স্বাস্থ্যসেবা পিরামিডের নি¤œতম স্বাস্থ্যসেবা স্তরটি সাব-সেন্টার এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে শুরু করে টারশিয়ারী লেভেলের সেবাকেন্দ্র হচ্ছে- পিরামিড চূঁড়া। কথায় আছে, ‘মেগা প্রজেক্ট, মেগা চুরি।’ তাই টারশিয়ারি লেভেলের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর দিকেই সবার নজর কাড়ে আগে। সরকারের বিগ বাজেটের আয়ন ও ব্যয়ন ক্ষেত্রও এই টারশিয়ারি লেভেলের হাসপাতালগুলো। তবে দুঃখের কথা এই যে, রোগীর তুলনায় শয্যাসংখ্যার অপ্রতুলতা, লোকবল সংকট, সরকারি জনবলের তুলনায় আউটসোর্সিং জনবলের আধিক্য, আউটসোসির্ং কর্মীদের জবাবদিহিতার সংকট, আউটসোসির্ং নিয়োগে পদে পদে টাকা লেন-দেন, ফাস্টহ্যান্ড-সেকেন্ড হ্যান্ড-এ নিয়োগপ্রাপ্তদের অর্থবণ্টন, নিয়োগপ্রাপ্ত হাসপাতালে সিন্ডিকেটের কবলে কর্মীদের বেতনের একটা অংশ দিতে বাধ্য হওয়া, নিয়োগপ্রাপ্ত কতিপয় কর্মী তার ঔড়ন বা চাকুরির আংশিক টাকায় বিক্রয় এবং শেষতক প্রদেয় অর্থ পরিপূরণে নব্যদালালীতে নেমে পড়া। তাই অর্থ সাশ্রয় ও সম্পত্তি সাশ্রয় (ঔষধ, জেনারেল স্টোর সম্পর্কিত দ্রব্যাদি, যন্ত্রপাতি, লিলেন সামগ্রী ইত্যাদির সাশ্রয়), দালাল তৎপরতা রোধ এবং পরিবেশ উন্নয়নে সার্জারি এন্ড এলাইড বিষয়গুলোর রুটিন রোগীদেরকে হাসপাতালে দিনের পর দিন বা মাসের পর মাস (কোনো না কোনো উরংপরঢ়ষরহব এ) ওয়ার্ডে ভর্তি না রেখে তাদেরকে অপারেশনের ৫/৭ দিন পূর্বে বাড়ি থেকে এসে ভর্তির পর অপারেশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত। ফলে রোগীর চাপও অনেকাংশে কমে যাবে, রোগী ও রোগী স্বজনদের অহেতুক ভোগান্তি হবে না, রোগীর-স্বজনদের কর্মঘণ্টাও নষ্ট কম হবে। অপরদিকে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে ও সাবলীলভাবে মানবিক সেবাটুকু দিতে পারবে। তাছাড়া, হাসপাতালের পরিবেশ রক্ষাও সহজ হবে এবং জরুরি রোগীসেবা দিতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে না। সৃষ্টি হবে না রোগী-স্বজন ও চিকিৎসক এবং সেবাদানকারীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা। তাই সরকার এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল ব্যাপারটি আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে অতি মঙ্গলদায়ক হবে বলেই অভিজ্ঞজনদের বিশ^াস।
লেখক: চিকিৎসক ও সাংবাদিক।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.