'আমার কবরেরই পাশ দিয়া':গানটির গীতিকার কবি আবদুল হান্নান ইউজেটিক্স টিকটক ও ফেসবুকে ভাইরাল

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১০ (রবিবার)
'আমার কবরেরই পাশ দিয়া':গানটির গীতিকার কবি আবদুল হান্নান ইউজেটিক্স টিকটক ও ফেসবুকে ভাইরাল

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে হৃদয়স্পর্শী ও ভাবগম্ভীর ইসলামি সংগীত 'আমার কবরেরই পাশ দিয়া/ কে যাও গো হাঁটিয়া/ আমার জন্য দোয়া করো/ একটু দাঁড়াইয়া/ গরম জলের গোসল দিয়া/ পরাইয়া কাফন/ সবাই মিলে করে গেলো/ আমাকে দাফন/ এখন আমি একলা থাকি/ এক কাপড়ে শুইয়া/ মিছে আশা ভালোবাসা/ মিছে মায়াজালে/ জীবন আমার কেটে গেছে/ শুধুই ভুলে ভুলে/ সুখে দুঃখে ছিলাম সবার/ সঙ্গের সাথী হইয়া/ টাকা কড়ি বাড়ি গাড়ি/ কতো আপনজনা/ মরার পরে কেউ তো আমার/ সঙ্গেতে আইলো না/ আপনজনাই গেলো আমায়/ এই নিধানে থুইয়া/ নাই দরজা নাই জানালা/ আন্ধাইর মাটির ঘর/ জনম জনম পইড়া আছি/ লয় না কেউ খবর/ আশায় থাকি স্বজন যদি/ দোয়া করে আইয়া'।

গানটির কথা লিখেছেন ময়মনসিংহের নান্দাইলের কৃতীসন্তান, বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী কবি ও শিক্ষাবিদ আবদুল হান্নান ইউজেটিক্স। 

তবে একটি সৃষ্টির আত্মিক বার্তা কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার নেপথ্যে থাকে একটি পুরো দলের নিষ্ঠা, শ্রম ও শিল্পের যৌথ প্রয়াস। তরুণ সুরকার ও শিল্পী আরিফ আল মাহমুদের দরদী সুর ও আবেগঘন কণ্ঠ নাশিদটিকে দিয়েছে এক গভীর আত্মিক রূপ। সংগীত আয়োজনে ফজলে রাব্বির সুনিপুণ পরশ গানটির আবেগকে আরো সংবেদনশীল করে তুলেছে। সেই সাথে চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা ও কালার গ্রেডিংয়ে সাকিব আল মামুনের কারিগরি নৈপুণ্য ভিডিওটিকে করেছে দৃশ্যসুখকর ও অর্থবহ। ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার হিসেবে প্লেটিউন-এর ভূমিকাও প্রশংসনীয়।
বিশেষভাবে আলো ফেলতে হয় এর পরিচালক ও প্রযোজক সিকে ইমরানের ওপর। তাঁর সূক্ষ্ম ভিজ্যুয়াল দৃষ্টিভঙ্গি, চমৎকার রং বিন্যাস এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় কাজটিকে তিনি এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিশেষ করে সিকে ইমরান মিউজিক চ্যানেলে এটি আত্মপ্রকাশ করার পরপরই শ্রোতাহৃদয়ে এক অভূতপূর্ব আবেগ সৃষ্টি হয় এবং দেখতে দেখতে তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো সাইবার জগতে।
আজ ফেসবুক, ইউটিউব এবং টিকটকে ১০ লক্ষাধিক রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে কোটি মানুষের অন্তরে আলোড়ন তুলে নাশিদটি ক্ষণস্থায়ী জীবনের এক পরম শাশ্বত স্মারক হয়ে উঠেছে। লাখ লাখ মানুষকে আখেরাতের ভাবনায় প্লাবিত করার এই যাত্রায় পর্দার সামনের ও পেছনের প্রতিটি গুণী মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁদের এমন দরদ মাখা পরিবেশনা ও ভালোবাসার জন্যই সৃষ্টিটি সার্থকতা পেয়েছে। 
গানটির সফল রচয়িতা কবি আবদুল হান্নান ইউজেটিক্স ১৯৭৬ সালের ১০ জুলাই ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার ১ নং বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের পলাশিয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মড়লবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক। বর্তমানে তিনি সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে সহকারী শিক্ষক (গণিত) হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কর্মরত আছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ২০২৬ সালে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ শ্রেণিশিক্ষক এবং একাধিকবার বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন।

সঙ্গীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকার অংশ হিসেবে তিনি ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং ২০২৫ সাল থেকে বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার হিসেবে নিয়মিত গান রচনা করে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আহ্বানে সাড়াদিয়ে ২০২২ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রশিক্ষণে সফলভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন তিনি সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন।

তাঁর নিয়মিত সাহিত্যসাধনার অংশ হিসেবে স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও ম্যাগাজিনে তাঁর লেখা কবিতা, ছড়া, গল্প, প্রবন্ধ ও গান নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। দীর্ঘ সাহিত্যসাধনায় তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ 'ভালোবাসার শিকড়', 'কবিতার মিছিলে যাব', 'ভালোবাসা মনের অসুখ', গল্পগ্রন্থ 'মেঘের আড়ালে' এবং ইসলামি সংগীতগ্রন্থ 'জান্নাতি ফুল'।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.