মাদ্রাসা কমিশন বিলুপ্ত করল পশ্চিমবঙ্গ
পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের পৃথক ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত করে সেটিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের বক্তব্য, নিয়োগব্যবস্থায় সামঞ্জস্য আনা এবং প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি কার্যকর করতে বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট আইন বাতিল ও সংশোধনের প্রয়োজন হবে।
কেন বিলুপ্ত করা হলো মাদ্রাসা কমিশন?
মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছিল। এর মধ্যেই মাদ্রাসাগুলোর কার্যক্রম, অনুমোদন, অবকাঠামো ও পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে রাজ্যজুড়ে সমীক্ষা চালানো হয়।
সরকারের যুক্তি, মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের আওতায় আনলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি হবে। একই সঙ্গে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ
মাদ্রাসা কমিশন বিলুপ্তির সিদ্ধান্তের আগে রাজ্য সরকার ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সমীক্ষায় এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, পরিকাঠামো, পরিচালনব্যবস্থা ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। যেসব মাদ্রাসার প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিয়মকানুন রয়েছে, সেগুলোকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।
সমীক্ষায় উঠে এসেছে অনিয়মের তথ্য
রাজ্য সরকারের পরিচালিত সমীক্ষায় বেশ কিছু মাদ্রাসার নিবন্ধন ও অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠে আসে। বিশেষ করে সরকারি অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর বাইরে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজর দেওয়া হয়।
সরকারের দাবি, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো তাদেরও সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই এ ধরনের সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য।
আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই কার্যকর
মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন ২০০৮ সালের আইনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল। ফলে কমিশন বিলুপ্ত করে এর দায়িত্ব স্কুল সার্ভিস কমিশনের হাতে দিতে সংশ্লিষ্ট আইন পরিবর্তন করতে হবে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ জন্য বিধানসভায় পৃথক বিল আনা হবে—একটি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন বাতিলের জন্য এবং অন্যটি স্কুল সার্ভিস কমিশন আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য। বিধানসভায় বিল পাস হওয়ার পর তা রাজ্যপালের অনুমোদন পেলে সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও বদল
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় ধারাবাহিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে সংখ্যালঘুবিষয়ক দপ্তরের অধীনে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে নেওয়া হয়েছে।
ফলে মাদ্রাসা শিক্ষা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামোয় একের পর এক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সামনে কী হতে পারে?
মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত হলে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের পৃথক কমিশন আর থাকবে না। নতুন কাঠামোয় স্কুল সার্ভিস কমিশনই মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব পালন করবে।
তবে আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর হবে না। এখন মূল নজর বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট বিল কবে আনা হয় এবং নতুন নিয়োগ কাঠামো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়, সেদিকে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.