বিশ্বনাথে মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণে BRT-UK এর ৬ লাখ টাকা বৃত্তি প্রদান
অর্থের অভাবে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন মাঝপথে থমকে যায়। কেউ বই-খাতা কেনার চিন্তায়, কেউবা শিক্ষা ব্যয়ের ভারে হারিয়ে ফেলেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর সাহস। এমন বাস্তবতায় সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ রিজেনারেশন ট্রাস্ট—BRT-UK |
সংগঠনটির অর্থায়নে এবং গ্লোবাল উন্নয়ন সেবা সংস্থা (GUSS )-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিশ্বনাথে ৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে মোট ৬ লাখ টাকা শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থী পেয়েছে ১২ হাজার টাকা করে।
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্বনাথ উপজেলার কামালপুর আল ফালাহ একাডেমি অ্যান্ড প্রিন্সিপল উইমেন্স কলেজের হলরুমে উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের হাতে যখন বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন তাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ ও ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের এসব মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য এই সহায়তা শুধু অর্থের সহযোগিতা নয়—এটি তাদের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণাও।
সাংবাদিক তৌফিকুর রহমান হাবিবের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ বিন কাশেম।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্য রাখেন দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আল ফালাহ একাডেমি অ্যান্ড প্রিন্সিপাল উইমেন্স কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এমাদ উদ্দীন খান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গ্লোবাল উন্নয়ন সেবা সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, বক্তব্য রাখেন আল ফালাহ একাডেমি অ্যান্ড প্রিন্সিপাল উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান সায়েম। এসময় উপস্থিত ছিলেন কলেজ গভনিং বডির সদস্য আব্দুর রহিম মাহিন, দাতা সদস্য মোঃ জামাল উদ্দীন, প্রিন্সিপল উইমেন্স কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মিজানুর রহমান,
সমাজবিজ্ঞান প্রভাষক খাদিজা খানম, পৌরনীতি প্রভাষক আব্দুল মোতালেব, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রভাষক রলি বেগম ও বাংলা বিভাগের প্রভাষক খাদিজা আক্তার সাবরিন, অভিভাবকবৃন্দ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা বলেন, মেধা কখনো অর্থের কাছে পরাজিত হওয়া উচিত নয়। একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে এর সুফল পৌঁছাবে পুরো সমাজে।
তারা আরও বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা করা মানে ভবিষ্যতের একটি আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে বিনিয়োগ করা।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এই সহায়তায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে পরিবারকে যে চাপ নিতে হয়, এই বৃত্তি তাদের সেই চাপ কিছুটা হলেও কমাবে। একই সঙ্গে আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রেরণা জোগাবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা—এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের আরও মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা তাদের স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া ১২ হাজার টাকা হয়তো কেবল একটি বৃত্তি; কিন্তু সেই অর্থের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং আলোকিত সমাজ গড়ার প্রত্যাশা।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.