লিডিং ইউনিভার্সিটির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:১৭ (রবিবার)
লিডিং ইউনিভার্সিটির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

 

 

সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটির ফল সেমিস্টার ২০২৬ এ ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান আজ শনিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের আন্ডাগ্র‍্যাজুয়েট এবং গ্র‍্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ফল সেমিস্টার ২০২৬ ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. নিয়াজ আহমদ চৌধুরী, পিএইচডি।
লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাই,  লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সৈয়দ আব্দুল হান্নান।

ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন প্রোগ্রামের নতুন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন অতিবাহিত করেন আনন্দমুখর পরিবেশে। শিক্ষার্থীদের সাথে বিপুল সংখ্যক অভিভাবক প্রাকৃতিক ছায়াঘেরা লিডিং ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ও অবকাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি এর সদস্য অধ্যাপক ডা. নিয়াজ আহমদ চৌধুরী বলেন, বিদেশে সহজে চাকরি পেতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ বিষয়ের পাশাপাশি এআই, ড্রোন ম্যানেজানেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ইউজিসির কাজ হলো সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি ব্রিজ তৈরী করে দেয়া। জুলাই শহিদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের জন্যই আজ আমি এখানে আসতে পেরেছি।  শিক্ষার্থীদের উদ্যেশে তিনি বলেন, শুধু ভালো সিজিপিএ অর্জন করলে হবেনা, দেশের উন্নয়নে নিজেকে  দক্ষ জনশক্তিতে পরিনত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ভলান্টিয়ার হিসাবে সমাজের বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকতে হবে। সেজন্য লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ড. রাগীব আলীর জীবন ও কর্ম  থেকে শিক্ষা নিলেই বুঝতে পারা যাবে দেশের উন্নয়নে কিভাবে নিজেকে সম্পৃক্ত করা যায়।

সভাপতির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য হিসেবে নবীন শিক্ষার্থীদেরকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জীবনে উন্নতি করতে হলে শৃংখলা বজায় এবং নিয়ম মেনে চলতে হবে।  তিনি বলেন, সন্তানদের সুশিক্ষিত করে ঘরে তুলতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের দায়িত্বও অনেক। আজ আমরা খুশি যে লিডিং ইউনিভার্সিটি স্থায়ী সনদপ্রাপ্ত একটি পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, এখানে উন্নত পরিবহন ব‍্যবস্থাসহ, শিক্ষার্থীদের জন‍্য খেলার মাঠ এবং পড়াশোনার জন‍্য রয়েছে রিসোর্সফুল লাইব্রেরি। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির তৃতীয় একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে  দক্ষ শিক্ষক ও উন্নত শিক্ষা পরিবেশ। পরিশেষে তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদেরকে  সুশিক্ষিত করে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে দক্ষ মানব সম্পদে পরিনত করতে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ‍্যমে কাজ করার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাই বলেন, এটা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রথম পদক্ষেপ। তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন‍্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা তাদেরকে উন্নত বিশ্বের সাথে পরিচিত করতে সাহায্য করে। আর্টিফিশ‍্যাল ইন্টেলিজেন্স (Ai) প্রভাবে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে এবং নিজেদেরকে সামঞ্জস্য রাখতে এডুকেশন এবং প্রফেশনালিজম হতে হবে, লিডিং ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের জন‍্য রয়েছে বাস্তব জ্ঞানার্জনের সুযোগ।

নবীন শিক্ষার্থীদের লিডিং ইউনিভার্সিটিতে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, লিডিং ইউনিভার্সিটি কেবল সিলেটের মধ‍্যে সেরা বিশ্ববিদ্যালয় নয়,  দেশের বেস্ট ইউনিভার্সিটিগুলোর মধ‍্যে স্থায়ী সনদ প্রাপ্ত একটি বেস্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে শুধু সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়না, এখানে দক্ষ শিক্ষকদেথ মাধ্যমে উন্নত ক‍্যারিয়ার গড়তে পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করা হয়। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজের পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নের প্রতি কমিটেড হতে হবে এবং নিজেদের সেভাবে গড়ে তুলতে হবে আর এখনই সেই সময় নিজেদের তৈরী করার। তিনি লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা উপমহাদেশের প্রখ‍্যাত দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, মানব সম্পদ তৈরি করার জন‍্যই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং লিডিং ইউনিভার্সিটি সে লক্ষ্যেই উন্নীত হচ্ছে। পরিশেষে তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্যকে এখানে এসে নবীন শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করার জন্য এবং আজকের এ সুন্দর অনুষ্ঠান আয়োজনের জন‍্য  আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ব‍্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভুঁইয়া, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আয়োজক কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, ছাত্রকল‍্যাণ উপদেষ্টা প্রফের ডা. মো. আব্দুল মজিদ মিয়া, লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদ এবং সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের পক্ষে স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দ মহসিন আলী। এতে বক্তব্য রাখেঞ ঢাকা থেকে আগত ইউনাইটেড কনসালটেন্টের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মারুফ হোসেন খান। নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে অনুভূতি ব‍্যক্ত করেন বিবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. এমাদ রহমান মাহি এবং বিএ অনার্স ইন ইংলিশ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী নূর সাকিন রহমান।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে লিডিং ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. কবির আহমেদ,  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, লাইব্রেরিয়ান এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।লিডিং ইউনিভার্সিটির ট‍্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম‍্যানেজমেন্ট  বিভাগের সহকারি অধ‍্যাপক মিসেস জহুরা জামিন জোহা  এবং ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. এনাম আহমেদের সঞ্চালনায় নবীনবরণ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন, পবিত্র গীতা পাঠ করেন ট‍্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম‍্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী অবিরাম গোপাল দাশ।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.