জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:১০ (মঙ্গলবার)
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি

 মানুষ যখন ক্রয়ক্ষমতার চাপে ঠিক এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো। ফলে উদ্বেগ যে কেবল জ্বালানির বাড়তি দাম, তা নয়; বরং বড় প্রশ্ন হলো, এর পরোক্ষ প্রভাবে পরিবহন, খাদ্য, কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত হয়ে সামগ্রিক মূল্যস্তরে কতটা চাপ সৃষ্টি হবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, মূল্যস্ফীতির এই নতুন চাপ সামাল দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট কৌশল আছে, তা দেখা যাচ্ছে না।

 

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ডিজেলের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে ডিজেলের ব্যবহার হয়। তাই ডিজেলের দাম বাড়লে প্রথমেই পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ে। বাস ও ট্রাক পরিচালনার ব্যয় বাড়ে, সেচের খরচ বাড়ে, জেনারেটর ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চালানোর ব্যয়ও বেড়ে যায়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাধারণত এই বাড়তি খরচের পুরোটা নিজেরা বহন করে না। সময়ের সঙ্গে এর একটি বড় অংশ পণ্যের দামের মাধ্যমে ভোক্তার ওপর চলে আসে।

 

 

খাদ্য মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। কৃষিপণ্য উৎপাদন থেকে বাজারজাত করা পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ধাপে পরিবহন, সেচ ও সরবরাহ খরচ জড়িত। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে একই সঙ্গে কয়েকটি ব্যয়ের উৎসে চাপ তৈরি হয়। এর সঙ্গে ব্যবসায়ী, পরিবহনমালিক ও শ্রমিকেরা যদি মনে করেন ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে, তাহলে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। তখন তাঁরা আগে থেকেই পণ্যের দাম ও মজুরি সমন্বয় শুরু করেন। এতে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে; পরবর্তীকালে তা নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

 

এর সামাজিক প্রভাবও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তুলনামূলক ধনী পরিবার হয়তো সরাসরি বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে, কিন্তু নিম্ন আয়ের পরিবার অনেক সময় পরোক্ষভাবে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। কেননা তাদের আয়ের বড় অংশ ব্যয় হয় খাদ্য, যাতায়াত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে। বাসভাড়া কিছুটা বৃদ্ধি, চাল বা সবজির মূল্যবৃদ্ধি কিংবা রান্নার খরচ বেড়ে যাওয়াই তাদের মাসিক বাজেটে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। শহরের নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, ডিজেলনির্ভর সেচব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল কৃষক পরিবার ও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক—তাঁদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। দেখা যায়, এদের সিংহভাগের আয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমান হারে বাড়ে না। ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে শেষ পর্যন্ত এই শ্রেণির মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.