গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরিতে জনতার রায় প্রয়োজন
‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস (মূলত: আল্লাহ পাকই সকল ক্ষমতাসহ দুনিয়াভী সব কাজের উৎস)’ পার্থিব জগতে প্রাণীকূলের চাওয়া-পাওয়ার শেষ নেই; তবে শেষ আছে শুধু জীবনের-এটিই বাস্তবতা, এটিই অকাট্য সত্য। এখানে প্রাণীকূল বলতে উঁচু শ্রেণি যেমন মানুষ এবং নীচু শ্রেণি যেমন-সিংহ, বাঘ, নেকড়ে, কুমির, চিতাবাঘ, হরিণ, মহিষ, জেব্রা, বুনো শূকর ইত্যাদিকে বোঝানো হয়েছে। উঁচু শ্রেণির প্রাণি (আশরাফুল মাখলুকাত) মানুষের স্বপ্ন জীবনে টাকা, জীবনান্তে টাকা, বাড়ি, গাড়ি, প্রভাব প্রতিপত্তি-পার্থিব শেষ ঠিকানা-ক্ষমতার চেয়ার। ফলে এসবের পিছে ছুটতে ছুটতে হয় অনেকেই বিপথগামী, অসৎ, অবিবেচক, অত্যাচারী, জালিম, নির্যাতনকারী, ফ্যাসিবাদী। ক্ষমতার স্বাদ এতই মধুর যেটি চিনির চেয়ে ৪০ হাজারগুণ বেশি মিষ্টি স্যাকারিণের চেয়েও মিষ্টি ও মধুর। হে ক্ষমতালোভী বির্বোধ মানুষ। চিন্তা করুণ, আপনার স্ট্রোক আক্রান্ত জীবনের কথা-হিমোরেজিক স্ট্রোক (মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিঁড়ে মস্তিষ্কে রক্ত জমা), ইস্কেমিক সেট্রাক (মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ চলাচলে বাধায় মস্তিষ্কের অংশক অকর্মন্য হওয়া এবং শরীরে এক পাশর্^ বা উভয় পাশর্^ প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার কথা, কথা অস্পষ্ট বা বাকহীন হওয়ার কথা (জিহ্বা দিয়ে, হাতের অঙ্গুলী ঝাঁকুনিতে বার বার, কোটিবার মিথ্যা বলেছেন, এখনকার অবস্থা কি(?) মূলত: অবস্থা খুবই করুণ। নিষেধ আছে-পঙ্গুকে পঙ্গু বলা, অন্ধকে অন্ধ বলা-কারণ, তাঁরা মনে কষ্ট পান। কিন্তু আপনিতো পাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত, তাই আপনাকে তো জনতার ধিক্কার, অপবাদ, গালি, মন্দ কথা শুনতেই হবে, জ¦ী জনাব। আপনার সাধের সহায় সম্পদ অর্থকড়ি চোখের সামনে ভাগ-বাটোয়ারা হবে, আপনি কিছুই বলতে পারবেন না-কেননা, আপনারতো চলার ক্ষমতা নেই-চলৎশক্তিহীন, বাকহীন (বধির), নিকটাত্মীয় সবাই আপনাকে সেবা দিতে দিতে বলবে, ‘হে আল্লাহ, উনাকে আর কষ্ট দিয়োনা, দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নাও’। আর বিরক্তির সুরে নিকটজনের কেউ বলবে, ‘ব্যাটা মরেনা কেনো’ প্রমাণ চান? হতের মুঠোয় প্রমাণ আছে- আমি নিজে যেহেতু নিউরোসার্জন (¯œায়ুশল্য বিশেষজ্ঞ), তাই মস্তিস্কের জমাট বাঁধা রক্ত যেটিকে ওহঃৎধপবৎবনৎধষ ঐধবসড়ৎৎযধমব (ইন্ট্রাসেরিব্রাল হিমোরেজ বা ওঈঐ) বলে, তার অপারেশনের ঈড়ঁহংবষরহম (বোঝানো)’র সময় আত্মীয়-স্বজনেক ওঈট খরচ সহ আনুষাঙ্গিক খরচের কয়েক লক্ষ টাকার হিসেব দিলে বলেন অনেকেই-স্যার, আমার অমুক ভাই, তমুক ভাই বিদেশে আছেন, তাঁরা বললেন, এতো টাকা দিয়ে অপারেশন করে কি লাভ? বাবা যেহেতু মরেই যাবে, তাই বাবাকে বাড়ি নিয়ে যাও, মরলে মরবে বাঁচলে বাঁচবে।’ আর গরিব রোগীদের পক্ষে তো এতো টাকা যোগাড়ের ক্ষমতাই নেই। তাই রোগীর পরিণতি নির্ঘাত মৃত্যু। প্রিয় পাঠক এবং যাদের উদ্দেশ্যে বলছি, বুঝেলেন তো (?) আপনার এই সম্পদ দুঃসময়ে কাজে আসবে না। এ তো বয়ান হলো উঁচু প্রাণির ক্ষেত্রে। নীচু প্রাণি যা পূর্বে উল্লেখিত ক্ষমতাধর সিংহ, বাঘ, চিতাবাঘ বা জাগুয়ার, নেকড়ে, কুমির ইত্যাদি সবাই তুলনামূলক দুর্বল গোষ্ঠী-হরিণ, মহিষ, জেব্রা, বুনো শূকরকে ধরে ধরে খেয়ে ফেলছে। হয়তো এদের হিং¯্রতা দমনের ভালোমন্দ বিচারের কার্যকরী ঋৎড়হঃধষ খড়নব (মস্তিস্কের ঋৎড়হঃধষ খড়নব যেটি বিচার-বিবেচনা করতে সহায়ক) উর্বর নয়। কিন্তু মানুষ জীব সেরা এবং ঋৎড়হঃধষ খড়নব কার্যকর, তার কি হিং¯্র পশু-আচরণ শোভা পায়? পায়না মোটেও। অর্থ, প্রভাব, প্রতিপত্তি, আত্মীয়-স্বজনের সুবাদে ক্ষমতা সাময়িক কুক্ষিগত হতেই পারে। কিন্তু তা ক্ষণস্থায়ী। ক্ষমতাকে টেকসই করাতে হলে জনতার কাতারে দাঁড়াতে হবে, মঙ্গলদায়ক কাজ করতে হবে যাতে করে সমাজ ও জাতি উপকৃত হয়। এর জন্য গণতান্ত্রিক চর্চা অক্ষুণœ রাখা ও এর লালন, ঘড়ঁৎরংযসবহঃ দরকার। কেননা, শুরুতে যেটি উল্লেখ করা হয়েছে- জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস (যদিও আল্লাহই সব কিছুর মালিক)- তাদের সম্মান দিতে হবে, বৈষম্য করা যাবেনা, অবজ্ঞা- অবহেলা করা যাবে না। তাইতো সমাজবিজ্ঞানীদের মতে- ক্ষমতার লোভে গদি মেলে, কিন্তু গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরিতে অবশ্যই জনতার রায় প্রয়োজন অর্থাৎ গণতন্ত্রের জন্য জনতা মেলে বা জনতা পাশে থাকে।
লেখক: চিকিৎসক ও সাংবাদিক।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.