ঢাকাসহ সারা দেশে অন্ধকার, বিদ্যুৎ ঘাটতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১১:১১ (মঙ্গলবার)
ঢাকাসহ সারা দেশে অন্ধকার, বিদ্যুৎ ঘাটতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ভাদ্রের তীব্র গরমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও বেড়েছে লোডশেডিং। দিন-রাত বিদ্যুতের ঘন ঘন বিচ্ছিন্নতায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় নেমে আসছে অন্ধকার, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

আগস্টের শুরু থেকেই দেশে বিদ্যুৎ সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সে সময় বিদ্যুতের ঘাটতি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। মাঝখানে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাসের শেষ দিকে এসে পরিস্থিতি আবারও অবনতির দিকে গেছে। রোববার বিকেল ৪টার দিকে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৩৯ মেগাওয়াটে।

এর আগে ৯ আগস্ট দিবাগত রাত ১টায় চলতি সংকটের সর্বোচ্চ লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়। সে সময় ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত দুই দিনে দিনে ও রাতে গড়ে ২ থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। মধ্যরাতের দিকে এই ঘাটতি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছায়, যা মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে দেশের অধিকাংশ এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর ১২টায় দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৭৮ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১২ হাজার ৬৮৮ মেগাওয়াট। এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট। বিকেল ৪টায় তা বেড়ে ৩ হাজার ৬৩৯ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। তখন মোট বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ১২ হাজার ৮৫৪ মেগাওয়াট। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৪৯ মেগাওয়াট, তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ২ হাজার ২১৮ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৫৬০ মেগাওয়াট এবং ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে ১ হাজার ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ওই সময়ও লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৫৩৯ মেগাওয়াট।

পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে জ্বালানি সমস্যার কারণে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকেও প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পিডিবির চাহিদা মেটাতে গত এক সপ্তাহে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রায় ২০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত বার্ষিক সূচির তুলনায় দ্বিগুণ।

ঢাকাতেও বাড়ছে লোডশেডিং

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানী ঢাকাতেও নিয়মিত লোডশেডিং করা হচ্ছে। আবাসিক এলাকাগুলোতে দিনে তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং একেকবার বিদ্যুৎ ফিরতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে।

রোববার সন্ধ্যার পর রাজধানীর বনশ্রী, খিলগাঁও, মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে নগরজুড়ে অন্ধকার নেমে আসে এবং জনভোগান্তি আরও বাড়ে।

অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে বেশিরভাগ কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র

গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ার পর বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে কয়লার সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট হলেও রোববার সন্ধ্যা ৬টায় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৫৬০ মেগাওয়াট।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তিন ইউনিটের সক্ষমতা ৪৪৪ মেগাওয়াট হলেও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে উৎপাদন নেমে আসে প্রায় ২০০ মেগাওয়াটে। কয়লার সংকটে ভারতের আদানি পাওয়ারও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে দিনে প্রায় ৯০০ এবং রাতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

পটুয়াখালীর আরএনপিএল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কয়লার সংকট রয়েছে। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ৯২০ মেগাওয়াটের বেশি উঠছে না। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রেও একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় সর্বোচ্চ উৎপাদন সীমাবদ্ধ রয়েছে ৫৫৮ মেগাওয়াটে।

এদিকে দেশের অন্যতম দক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র যান্ত্রিক সমস্যার কারণে অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই কেন্দ্র থেকে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৫১০ মেগাওয়াট। তবে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট পূর্ণ সক্ষমতায় ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.