হিমবাহ ধসে নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা, মৃত ৬৩৩

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫৯ (শনিবার)
হিমবাহ ধসে নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা, মৃত ৬৩৩

হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও তিব্বতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। একই ঘটনায় তিব্বতে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে চীনা সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি। এ ছাড়া তিব্বতে ৫৫৪ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৯২৪ জন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দেওয়া মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যায় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে। সেখানে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের কাদা ও পাথরে ভরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজদের সন্ধান করতে দেখা যায়। এ সময় তাঁরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা জানতে ‘কেউ আছেন?’ বলে ডাকছিলেন।

চীন জানিয়েছে, তিব্বতে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সামনে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে, খাড়া ঢাল বেয়ে এবং প্রবল স্রোতের নদী অতিক্রম করে উদ্ধারকারী দল তিব্বতের দুর্যোগকবলিত গিরং বন্দরে পৌঁছায়।

লাসার একটি অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী দলের প্রধান জৌ মিংছি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিকে বলেন, সেখানে ধ্বংসস্তূপ ছাড়া প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই। পুরোনো সীমান্ত গেটের আশপাশের এলাকা ঘন কাদায় ঢেকে গেছে। সেখানে পা ফেললেই কাদায় দেবে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের অন্যতম প্রধান সীমান্তপথ ছিল গিরং বন্দর। স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে দেখা গেছে, বন্দরটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

বন্দরটির আশপাশে উদ্ধার তৎপরতা চালানো কমান্ড টিম ধসপ্রবণ ঢালগুলো পর্যবেক্ষণে ড্রোন ও পর্যবেক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ করা উদ্ধারকারীদের আগাম সতর্ক করার চেষ্টা চলছে।

আবহাওয়ার অনুকূল স্বল্প সময়কে কাজে লাগিয়ে নিখোঁজদের মধ্যে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা খুঁজে দেখছেন উদ্ধারকারীরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালুর কাজও চলছে।

চীনা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিধসের পর সৃষ্ট হ্রদের পানির উচ্চতা আবারও বাড়ছে। ফলে নতুন করে কাদা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে নেপালে কয়েক হাজার পরিবার খাদ্য ও নিরাপদ পানীয় জলের সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকার জরুরি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ নেপালে ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন জানিয়েছেন, নেপালের জন্য তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে ইউরোপ ২০ লাখ ইউরো দিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সম্প্রদায়গুলোর জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের জনগণ দ্রুত এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে একসঙ্গে কাজ করবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করবেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.