রংপুরে ৪ খুন: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, কারাগারে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ
রংপুরে একই পরিবারের চার খুন: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন গ্রেপ্তার দুই তরুণ
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ১২ বছরের ছেলেকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-২–এ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মাছুয়াপাড়া গ্রামের মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে তাঁরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার ভোরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার রাত ৭টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মহানগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে জবানবন্দিতে তাঁরা কী বলেছেন, তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, আসামিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ইয়াবা সেবন করতে দেখার কারণেই গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে আসামিরা কী বলেছেন, তা এখনই জানানো সম্ভব নয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের পর জানা যাবে। আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়ায় তাঁদের রিমান্ড চাওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
এর আগে রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ আবদুল মাবুদ দাবি করেন, ছাদে ইয়াবা সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যকে একে একে হত্যা করেন মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস।
পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তী এলাকায় অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না।
এ ঘটনায় রোববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির সংখ্যাও নির্দিষ্ট করা হয়নি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতার মোবাইল ফোন থেকে তাঁর ছোট বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন।
পরদিন শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো একসময় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে পূজা চক্রবর্তী আবার বড় বোন প্রীতিলতাকে ফোন করেন। তবে পরিবারের চার সদস্যের মোবাইল ফোনই বন্ধ পান তিনি। সন্দেহ হওয়ায় স্বামী বিপুল আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে বোনের বাড়িতে যান পূজা।
বাড়িটি তখন অন্ধকার ছিল এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে গণপতির বাড়ির ছাদে ওঠেন পূজা। জানালার লক ভেঙে টর্চের আলোয় ঘরের ভেতর তাকিয়ে তিনি জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। একই সঙ্গে ঘর থেকে পচা গন্ধও বের হচ্ছিল।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আলমারি, শোকেস, আসবাব, কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। হত্যার পর ঘটনাটিকে অন্য কোনো ঘটনার মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস নগরের সিটি বাজারে একটি মাছের দোকানে কাজ করেন। অন্যদিকে সিদ্ধার্থ দাস প্রায় আট বছর ধরে একটি জুয়েলার্সে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.