মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললেও নতুন সিন্ডিকেট চান না: এনসিপি

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৩৫ (সোমবার)
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললেও নতুন সিন্ডিকেট চান না: এনসিপি

দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএসে ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে দলটি।

এনসিপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ডায়াস্পোরা বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কোনো নির্দিষ্ট কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির একচেটিয়া ব্যবসার ক্ষেত্র হতে পারে না। যোগ্য ও বৈধ সব এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ, কর্মীদের সহনীয় অভিবাসন ব্যয় এবং পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে আসিফ মাহমুদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এফডব্লিউসিএমএস ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে। তবে কী প্রক্রিয়া, মানদণ্ড বা ভিত্তিতে এসব এজেন্সি নির্বাচন করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে মালয়েশিয়ার নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দেশটির কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই তালিকা থেকে মাত্র ২৫টি এজেন্সি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ও ভিত্তি সরকারকে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, অতীতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল। সরকার নির্ধারিত ৭৯ হাজার টাকার বিপরীতে একজন কর্মীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে বিদেশে যাওয়ার আশায় অনেক কর্মী জমি-জমা বিক্রি, ঋণগ্রহণসহ নানা উপায়ে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়েছেন।

এনসিপির মতে, নতুন করে সীমিতসংখ্যক এজেন্সিকে কেন্দ্র করে একই ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ কর্মপ্রত্যাশীরা। তাই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ বন্ধ করতে হবে।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়া বাংলাদেশের কর্মপ্রত্যাশীদের জন্য বড় সুযোগ। তবে অতীতের সিন্ডিকেট ভেঙে নতুন কোনো সিন্ডিকেট তৈরি হোক, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিদেশে যেতে গিয়ে কোনো কর্মী জমি বিক্রি বা ঋণ নেওয়ার পর তাঁর কষ্টার্জিত অর্থ যেন সিন্ডিকেটের মুনাফার উৎস না হয়, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আগের সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই এবং সিন্ডিকেট গঠনের যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর তদন্ত প্রয়োজন। অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি একই চক্র যেন নতুন নামে বা নতুন কাঠামোয় ফিরে আসতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা কর্মীদের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের দাবি জানিয়েছে এনসিপি। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সংখ্যা, পদ্ধতি, অভিবাসন ব্যয় ও অন্যান্য শর্ত স্বচ্ছভাবে চূড়ান্ত করে তা জনসম্মুখে প্রকাশেরও আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.