সালিসে নারীকে জুতাপেটা: ক্ষমা চাইলেন ইউপি চেয়ারম্যান

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬ ১১:১০ (বৃহস্পতিবার)
সালিসে নারীকে জুতাপেটা: ক্ষমা চাইলেন ইউপি চেয়ারম্যান

 

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের বলাকিয়া গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সালিসে এক নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটার ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন। বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ক্ষমা চান।

ভিডিও বার্তায় চেয়ারম্যান দাবি করেন, বলাকিয়া গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল। গভীর রাতে ওই নারী ও যুবককে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় স্থানীয় কয়েকজন তরুণ আটক করেন বলে দাবি করেন তিনি।

চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তাঁকে ফোন করে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হলেও সময় গভীর হওয়ায় তিনি যেতে পারেননি। পরদিন সকালে সেখানে গিয়ে ওই বাড়িতে অনেক মানুষের উপস্থিতি দেখতে পান। পরে নারী ও যুবকের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা প্রায় ১৮ মাস ধরে সম্পর্কে থাকার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করেন চেয়ারম্যান।

ফরিদ উদ্দিন আরও বলেন, ওই যুবক বিয়েতে রাজি হলেও নারী এতে সম্মতি দেননি। পরে বিদেশে থাকা ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় সালিসের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানান।

‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে’ জুতাপেটা

চেয়ারম্যানের দাবি, সালিস চলাকালে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তরুণদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। এ সময় স্থানীয় মুরব্বিদের পরামর্শে পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি নারী ও যুবককে স্যান্ডেল দিয়ে কয়েকবার আঘাত করেন বলে জানান।

ফরিদ উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই তিনি ওই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে এতে আইনবহির্ভূত কোনো কাজ হয়ে থাকলে বা আইনের কোনো বাধা সৃষ্টি হয়ে থাকলে তিনি সবার কাছে ক্ষমা চান।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে বলাকিয়া গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সালিস বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ওই নারী ও সংশ্লিষ্ট যুবককে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন ওই নারীর চুলের খোঁপা ধরে পিঠে জুতা দিয়ে আঘাত করছেন। তবে সালিসে ওই পুরুষকে শাস্তি দেওয়ার কোনো ভিডিও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাসিন্দাদের অনেকে প্রকাশ্য সালিসে একজন নারীকে শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার ঘটনাকে অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, সালিসের নামে কারও ওপর শারীরিক শাস্তি প্রয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের মতে, কোনো অভিযোগের বিচার করার ক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। ঘটনাটি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তাঁরা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.