বাংলাদেশের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়া দলে চাপ, প্রশ্নের মুখে ব্যাটিং

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১১:১৬ (মঙ্গলবার)
বাংলাদেশের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়া দলে চাপ, প্রশ্নের মুখে ব্যাটিং

ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমের পরিবেশ যে খুব স্বস্তিদায়ক নয়, তা স্পষ্ট। নিজেদের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম হার। তার ওপর বিশ্ব টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলটি ম্যাচজুড়ে বাংলাদেশের সামনে বড় কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি।

এই পরাজয়কে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোও বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছে। সমালোচনার মুখে পড়েছেন দলের প্রায় সবাই। কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডও প্রথম টেস্টে দলের পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

ডারউইনে সংবাদ সম্মেলনে ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের মান অনুযায়ী খেলতে পারেনি। তাঁর মতে, এমন উইকেটে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫০০ রানের কম করা দলের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

ডারউইনের উইকেট নিয়ে ম্যাচের আগে দুই দলই ইতিবাচক মন্তব্য করেছিল। কিন্তু সেই উইকেটেই অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৮ রান করে। বিপরীতে মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পেয়ে বাংলাদেশ এক উইকেট হারিয়েই জয় নিশ্চিত করে।

প্রশ্নের মুখে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার

পরাজয়ের পর সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং নিয়ে। বিশেষ করে ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড ও তিন নম্বরে থাকা মারনাস লাবুশেনের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রথম টেস্টে ওয়েদারাল্ড করেন ২৩ ও ০ রান।

সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিংও টপ অর্ডারে পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। এরই মধ্যে দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে বাদ পড়েছেন ওয়েদারাল্ড। তাঁর জায়গায় দলে নেওয়া হয়েছে ম্যাট রেনশকে।

বয়স নিয়েও আলোচনা

অস্ট্রেলিয়া দলের বয়সের ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান স্কোয়াডে ৩০ বছরের নিচে একমাত্র খেলোয়াড় ক্যামেরন গ্রিন। সামনে অস্ট্রেলিয়াকে এক বছরে প্রায় ২০টি টেস্ট খেলতে হতে পারে। ফলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

তবে একটি ম্যাচের পরই বড় ধরনের পরিবর্তনের পক্ষে নন কোচ ম্যাকডোনাল্ড। তিনি মনে করেন, দলের বয়স, ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা থাকবেই; তবে একটি পরাজয়ের কারণে পুরো দলকে নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন নেই।

অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ওপর আস্থা রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের জন্য এই পরাজয় কতটা কষ্টের, সেটিও উল্লেখ করেন অস্ট্রেলিয়ার কোচ। তাঁর মতে, দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলা খেলোয়াড়দের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এমন হারকে স্বাভাবিকভাবেই অনুভব করতে হবে।

বাংলাদেশের কাছে ডারউইনের এই হার তাই অস্ট্রেলিয়ার জন্য কেবল একটি ম্যাচের পরাজয় নয়। নিজেদের মাঠে ৯ উইকেটে হারের পর ব্যাটিং, দলীয় ভারসাম্য ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। দ্বিতীয় টেস্টের আগে তাই চাপটা অস্ট্রেলিয়ার ওপরই বেশি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.