সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমানোর উদ্যোগ সরকারের
সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমানোর উদ্যোগ সরকারের
দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও দাম নিয়ন্ত্রণে রপ্তানি কোটা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগে অনুমোদন দেওয়া কোটার কতটুকু বাস্তবে রপ্তানি হয়েছে, তা যাচাই করে অব্যবহৃত অংশ বাতিল, কমানো বা সমন্বয় করা হতে পারে।
এ জন্য সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন পাওয়া ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে তাদের প্রকৃত রপ্তানির বিস্তারিত তথ্য আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, সুগন্ধি চালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিবেচনায় আগে দেওয়া রপ্তানি অনুমোদনের পরিমাণ কমানো বা সমন্বয় করা প্রয়োজন। এ কারণে অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত রপ্তানির তথ্য চাওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদিত রপ্তানি কোটা ও বাস্তবে রপ্তানি হওয়া চালের পরিমাণ এক নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত কোটার পুরোটা ব্যবহার করতে পারেনি। কেউ কেউ আংশিক রপ্তানি করেছে। ফলে অনুমোদিত কোটার একটি অংশ অব্যবহৃত পড়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অংশের হিসাব পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২৭৮ প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টন রপ্তানির অনুমতি
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে চলতি বছরের ১৩ মে প্রথম দফায় ২১১টি এবং পরে আরও ৬৭টি প্রতিষ্ঠানকে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
তবে গত ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেখা যায়, অনুমোদন পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের বরাদ্দ করা পুরো কোটা ব্যবহার করতে পারেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আংশিক রপ্তানি করেছে। এতে অনুমোদিত রপ্তানি পরিমাণের সঙ্গে বাস্তবে রপ্তানি হওয়া চালের পরিমাণে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে পুরো অনুমোদিত কোটা বহাল রাখার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে পর্যালোচনা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকৃত রপ্তানির তথ্য পাওয়ার পর অব্যবহৃত কোটা বাতিল, কমানো বা প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করা হতে পারে।
বাজারে সরবরাহ বাড়াতে নজরদারি
এর আগে ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে বৈঠকে সুগন্ধি চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি ও রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ ও দাম নিয়েও আলোচনা হয়। ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, দেশের শীর্ষ ১০টি বড় মিলমালিকের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুত রয়েছে। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী এসব চাল সরবরাহ না করায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে দামে।
তবে সরকার শুধু রপ্তানিকে বাজার সংকটের কারণ হিসেবে দেখছে না। মজুত, সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপরও নজর দেওয়া হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ ঠেকাতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে বাজার তদারকি জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রপ্তানি বন্ধ নয়, কোটা সমন্বয়ের পথে সরকার
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগে আপাতত সুগন্ধি চালের রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করার পরিবর্তে অনুমোদিত কোটার বাস্তব ব্যবহার যাচাই করে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের পথেই এগোচ্ছে সরকার।
তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই শেষে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রপ্তানি কোটা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং একই সঙ্গে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ বজায় রাখা।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.