ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার ভোরের এই ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। আতঙ্কে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু এলাকায় আশ্রয় নেন। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে প্রাথমিক তথ্যের সঙ্গে পরবর্তী তথ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি প্রথমে একজনের মৃত্যুর ও চারজন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে। তবে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর পরে পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নুসা তেঙ্গারা তিমুর প্রদেশের নাগেকেও এলাকার কাছাকাছি সমুদ্রে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে ফ্লোরেস দ্বীপের প্রধান শহর মাউমেরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। মাউমেরে বন্দরের একটি টার্মিনাল ভবনের অংশ ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও স্থাপনায় উদ্ধারকারী দল অভিযান চালাচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে সরে যাওয়ায় সুনামির আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পাহাড়ি ও উঁচু এলাকায় চলে যান। প্রায় ২ হাজার মানুষ নাগেকেও এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভূমিকম্পের পর একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে একটি কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও উপকূলীয় এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
বিএনপিবি জানিয়েছে, যেসব ভবনে ফাটল ধরেছে বা কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, সেগুলোতে বাসিন্দাদের প্রবেশ না করতে বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামি সতর্কতা পরে প্রত্যাহার করা হলেও কয়েকটি এলাকায় ছোট আকারের ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই আফটারশকের আশঙ্কায় এখনো ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.