গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় মিলছে স্বস্তি

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৩০ (শনিবার)
গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় মিলছে স্বস্তি

টানা ২৫ দিন ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। শনিবার ভোর থেকে মহেশখালীর সামিটের এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ায় দেশে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। তবে সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারকি করে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। আর আমদানির কাজটি করে পেট্রোবাংলার অধীন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার ভোর ৪টা থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকে ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান বলেন, দুটি টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে গ্যাস দিচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় গ্রাহকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

অগ্নিকাণ্ডে বন্ধ হয়েছিল এক্সিলারেট

মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা দৈনিক ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। গ্যাসের সংকটে বাসাবাড়িতে রান্না, শিল্পকারখানার উৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়। পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি এবং লোডশেডিং বেড়ে যায়।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপর বয়লার থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

তবে শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে কয়েক ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে ত্রুটি মেরামত করে আবার সরবরাহ শুরু করা হয়।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। এটি চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। এ সময় প্রায় ৭২ ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কবে এই পরীক্ষা শুরু হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সামিটেও বেড়েছে সরবরাহ

এলএনজি না পাওয়ায় গত কয়েক দিনে সামিটের টার্মিনাল থেকেও গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়েছিল। গত মঙ্গলবার সরবরাহ নেমে আসে ২০ কোটি ঘনফুটে। এরপর বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তা ১০ কোটি ঘনফুটে ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

শুক্রবার বঙ্গোপসাগরে ভিটলের একটি এলএনজি জাহাজ পৌঁছালে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়। প্রায় আট ঘণ্টা পর খালাসের কাজ শেষ হয়। এর আগেই সন্ধ্যা ৬টা থেকে টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে সামিট। প্রথমে সাড়ে ৯ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হলেও শনিবার ভোরে তা বেড়ে ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়।

এখনো ঘাটতি ৩০ কোটি ঘনফুট

পেট্রোবাংলা সূত্র অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। তবে ৩০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা গেলে মোটামুটি সব খাতে সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব। স্বাভাবিক সময়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার আগে এই পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।

শুক্রবার বিকেলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে গিয়েছিল। শনিবার তা বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুট হয়েছে। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনো প্রতিদিন প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করা গেলে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রয়োজনীয় মেরামত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটছে না।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.