যুদ্ধে নিহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ইরানকে, ফের হামলার কথাও ভাবছি: ট্রাম্প
ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ট্রাম্পের, সামরিক অভিযানের হুমকিও
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে, তাহলে ওয়াশিংটনও তেহরানের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের বিভিন্ন হামলা ও সংঘাতে নিহত এবং গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্যও ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আলোচনায় এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ইরানে বিক্ষোভে নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিও আলোচনায় রাখার কথা বলেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ২০০০ সালে ইউএসএস কোল-এ হামলায় নিহত ১৭ মার্কিন নাবিকের পরিবারের জন্যও ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি। যদিও ওই হামলার জন্য আল-কায়েদাকে দায়ী করা হয়েছিল।
এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করার সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, প্রণালিতে নতুন নৌপথ নির্ধারণের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে তারা চূড়ান্ত সমঝোতার কাছাকাছি রয়েছে। তবে হরমুজ খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে তেহরান। এর মধ্যে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সামরিক হুমকি বন্ধের বিষয় রয়েছে।
সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্যের পর সোমবার তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। পরে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বাড়তে দেখা যায়। একই সময়ে নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যের নিকটতম মেয়াদের গ্যাসের দামও ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ঠেকানো এবং দেশটির আঞ্চলিক সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।
তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে। এর আগে জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। পরে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের জাহাজ চলাচলের ওপর আবারও অবরোধ আরোপ করলে তেহরান এটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। এর আগে তিনি চলমান আলোচনাকে ইরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান এখনো বিবেচনায় রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে সে ধরনের অভিযান চালানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও ট্রাম্প দাবি করেন, জলপথটি বর্তমানে খোলা রয়েছে এবং এর নিয়ন্ত্রণ মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যেসব জাহাজকে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে, সেগুলো চলাচল করতে পারছে।
তবে ইরান চাইলে হরমুজে নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে বলেও স্বীকার করেন ট্রাম্প। ইরানি বাহিনী সেখানে মাইন পুঁতে দিতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে প্রণালিতে থাকা মাইন শনাক্ত ও অপসারণ করেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্বল এবং দেশটি বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আশারক আল-আওসাত ও আনাদোলু এজেন্সি
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.