‘কিসের হাসিনা, কোথায় বক্তব্য দিয়েছেন—চেহারাই তো দেখা যায় না’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১৩ (রবিবার)
‘কিসের হাসিনা, কোথায় বক্তব্য দিয়েছেন—চেহারাই তো দেখা যায় না’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং বাংলাদেশের মানুষও তাদের রাজনীতি গ্রহণ করবে না।

শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তাঁর চেহারা কি দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না।’

গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই এবং তারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চায়নি। ফলে দেশে তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ মানুষ দেবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘তারা বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে, চিৎকার-চেঁচামেচি করতে পারে। তবে আমরা এসবকে আর গুরুত্ব দিচ্ছি না।’

টেকনাফে অপহরণ ঠেকাতে সেনা ক্যাম্প

টেকনাফে অপহরণের ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় এলাকায় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জিওসি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় এলাকায় ক্যাম্প স্থাপনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে অপহরণের মতো অপরাধ কার্যকরভাবে দমন কিংবা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কক্সবাজারের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) ভবন পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে কলাতলীতে কউকের ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

কউকের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রকৃতি সংরক্ষণ করেই কক্সবাজারের পর্যটন উন্নয়ন করতে হবে। সমুদ্রসম্পদ, পর্যটন শিল্প, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে কক্সবাজার থেকে বিপুল রাজস্ব আহরণ সম্ভব।

গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজারে ব্লু ইকোনমি ও মেরিন সায়েন্স ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে সমুদ্রভিত্তিক গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্সবাজারকে শুধু পর্যটন এলাকা হিসেবে দেখলে হবে না; এখানকার অন্যান্য সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে হবে। প্রকৃতি যে সম্পদ দিয়েছে, সেগুলোর সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের যে প্ল্যান, সে প্ল্যান আমরা বাস্তবায়ন করব। আর এই প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

কক্সবাজারের পুরো ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকতকে পর্যটনের কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ এবং কক্সবাজারকে এমনভাবে সাজানোর ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে পুরো জাতি এ অঞ্চল নিয়ে গর্ব করতে পারে।

অনুষ্ঠানে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.