পুনরুদ্ধারের পথে দেশের অর্থনীতি, কাটেনি সব সংকট

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১৮ (বৃহস্পতিবার)
পুনরুদ্ধারের পথে দেশের অর্থনীতি, কাটেনি সব সংকট

দুই বছরে দেশের অর্থনীতিতে এসেছে পরিবর্তনের নানা চিত্র। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে অগ্রগতি দেখা গেলেও মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, কম বিনিয়োগ ও রাজস্ব ঘাটতির মতো বিষয়গুলো এখনো বড় উদ্বেগের কারণ। অর্থনীতিবিদদের মতে, স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করলেও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন আরও গভীর সংস্কার।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় দেশের অর্থনীতি ছিল নানা সংকটে জর্জরিত। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলারের সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ এবং দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। প্রায় ১৮ মাস পর নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব আসে। বর্তমান সরকারেরও পাঁচ মাস পার হয়েছে।

এই সময়ে অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উন্নতি দেখা গেছে। তবে একই সঙ্গে রয়ে গেছে কিছু মৌলিক দুর্বলতা। অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বৈদেশিক খাতে স্বস্তি

অর্থনীতির সবচেয়ে দৃশ্যমান উন্নতি এসেছে বৈদেশিক খাতে। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে ডলার সংকট, এলসি খোলায় সীমাবদ্ধতা, আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও রিজার্ভের চাপ অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছিল। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়েও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৈদেশিক খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও রিজার্ভে অগ্রগতি স্বস্তি দিলেও মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, রাজস্ব আহরণ ও ব্যাংক খাতের সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

বেড়েছে রিজার্ভ, কমেনি ঝুঁকি

বৈদেশিক খাতের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। দুই বছর আগে দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তা বেড়ে ৩৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মনে করছে, রিজার্ভ এখনো পুরোপুরি নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছায়নি। আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো চাপ তৈরি করতে পারে।

মূল্যস্ফীতির চাপ রয়ে গেছে

বৈদেশিক খাতে অগ্রগতি হলেও এর সুফল এখনো পুরোপুরি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের জুনে কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে এসেছে।

তবে মূল্যস্ফীতির হার কমলেও বাজারে পণ্যের দাম আগের তুলনায় বেশি থাকায় মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা পুরোপুরি ফিরেনি। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরেও মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮ দশমিক ৯ শতাংশ থাকতে পারে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.