সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অবৈধ ভবন ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) মো. রজি উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জল্লারপাড় এলাকার বাসিন্দা ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কয়সর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে কয়সর রহমান বলেন, তাঁর বাসার পাশের ১৮ নম্বর বাড়িতে বসবাস করেন রজি উদ্দিন খান। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজের প্রভাব ব্যবহার করে অনুমোদিত নকশা ও প্রয়োজনীয় সেফটি গ্যাপ ছাড়াই মাত্র তিন ফুট প্রশস্ত সড়কসংবলিত স্থানে ভবনের পঞ্চম তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে তাঁর পরিবারের আলো-বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, রজি উদ্দিন খান নিজের, স্ত্রী ও স্বজনদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। গোয়াবাড়ী এলাকায় একটি বিলাসবহুল বাংলো, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং একাধিক জীবনবিমা স্কিমের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি মাস্টাররোল শ্রমিকের সংখ্যা কাগজে-কলমে বাড়িয়ে দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয়।
কয়সর রহমান জানান, এসব বিষয়ে গত বছরের ২০ নভেম্বর সিসিকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে তিনি আদালতে স্বত্ব মামলা করেন। এছাড়া চলতি বছরের ৩০ জুন অবৈধ সম্পদ অর্জন ও জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে পৃথক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
তিনি অবৈধভাবে নির্মিত অংশ অপসারণ, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে রজি উদ্দিন খানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে তাঁর সম্পদের দুদকের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রজি উদ্দিন খান। তিনি বলেন, তাঁর বাড়ির সব কাগজপত্র বৈধ এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে আনা হয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.