জগন্নাথপুরে গরমে বাড়ছে নিউমোনিয়া-ডায়রিয়া, রোগীর চাপে নাকাল হাসপাতাল

প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:০০ (বুধবার)
জগন্নাথপুরে গরমে বাড়ছে নিউমোনিয়া-ডায়রিয়া, রোগীর চাপে নাকাল হাসপাতাল

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য মৌসুমি রোগের প্রকোপ বেড়েছে। রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাপ। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১৪০ থেকে ২০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। সোমবার নতুন করে ৩২ জন ভর্তি হওয়ার পর কয়েক দিনের ব্যবধানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৯ জনে। তাঁদের মধ্যে ১১০ জনই শিশু। ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগী নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত।

৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সীমিত অবকাঠামো ও জনবল নিয়েই তারা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। হাসপাতালে কোনো জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ডে ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়, ফলে গরমে রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ভুরাখালী গ্রামের পাভেল মিয়া জানান, তাঁর দুই বছরের ছেলে প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরে কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

নন্দীরগাঁও গ্রামের পলাশ মিয়া বলেন, রোগীর অতিরিক্ত চাপে শয্যা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জেরিন বলেন, বর্তমানে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেলেও সীমিত জনবল নিয়ে সবাই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রঞ্জন রায় বলেন, তীব্র গরমের কারণে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডে এখনো জেনারেটর নেই। আপাতত আইপিএসের মাধ্যমে শুধু আলোর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। তবে দ্রুত জেনারেটর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ না থাকলেও ওয়ার্ডে ফ্যান চালু রাখা সম্ভব হয়।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.